মিনহাজ আবেদিন, রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আন্তঃবিভাগ ফুটবল খেলায় গোল নিয়ে বিতর্ক ও কথা কাটাকাটির জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে সাইকেলের চেন দিয়ে মারধর করে নাক-মুখ ফাটিয়ে দিয়েছে ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ০৫ টার দিকে বিশ্বিবদ্যালয় স্টেডিয়াম গেটে এঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল চলছিল বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়াম মাঠে। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ এবং ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের মধ্যে খেলাটি চলছিল। এ ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে দুই পক্ষের কেউ গোল দিতে পারেনি। এর ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারের শেষ পর্যায়ে পাঁচটি কিক দিয়ে ফার্সি বিভাগের গোল হলো চারটি আর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ চারটি কিক দিয়ে তাদের গোল তিনটি। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বাকি একটি কিক গোলপোস্টের ভেতরে ঢুকলে দুইপক্ষেরই স্কোর সমান সমান হয়। তবে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের পাঁচ নম্বর কিক গোলবারে লেগে পোস্টের ভেতরে ঢুকার সময় ফার্সি বিভাগের একজন খেলোয়াড় বলটি ধরে ফেলে। আর এর আগেই ফার্সি বিভাগের গোলকিপার গোলপোস্ট থেকে বের হয়ে যায়। ফার্সি বিভগের গোলকিপারের অনুপস্থিতিতে তাদের অন্য খেলোয়াড় বলটি ধরায় কার্যত ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের গোলটি হয়নি। এনিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিতর্ক শুরু হলে র্যাপারী কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। এক পর্যায়ে র্যাপারীএ ম্যাচটি স্থগিত করে।
এরপর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা মাঠ থেকে বের হয়ে স্টেডিয়াম গেটে এলে ফার্সি বিভাগের কয়েজন শিক্ষার্থী তাদেরকে সাইকেলের চেন দিয়ে মারধর এবং কিল-ঘুষিও দেয়। এতে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের দুইজন শিক্ষার্থী আহত হয়। এখন এদের দুজনই বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছে।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘খেলা নিয়ে ঝামেলা শুরু হলে আমরা ৪-৫ জন স্টেডিয়ামের মূল ফটকে খেলোয়াড়দের রিসিভ করতে যাবার চেষ্টা করলে তোরা এখানে কেন? বলে ফার্সি বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সোহরাওয়ার্দী হল সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন শাকিলের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন সাইকেলের চেন খুলে হামলা শুরু করে। এতে ২জন আহত হয়।। এসময় তারা উচ্চস্বরে বলতে থাকে ধ্রুব আর মারিস না।’
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আশরাফ উজ জামান বলেন, বিতর্কিত বিষয়টি নিয়ে আমরা আগামীকাল বসবো। তখন এটি সমান হবে।
এবিষয়ে ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ওসমান গণি বলেন, ‘ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরাই আগে লাঠি-সোঁটা নিয়ে এসেছে। এরপর দু-পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের একজন আরেকজনের দ্বারা আঘাত পেলে তারা আহত হয়।’
এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আসাবুল হক বলেন, আমি ছেলেটির সাথে কথা বলেছি। তার মাথায় ও মুখে আঘাতের নমুনা দেখেছি। তারা এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে খেলা নিয়ে যে ঝামেলা হয়েছে তা টুর্নামেন্ট কমিটি বরাবর অভিযোগ দিলে তারা ব্যবস্থা নিবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নূর বলেন, খেলাটির ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। মারামারির বিষয়টি সমাধান করে খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।






