সোমবার | ২৪ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি | ১০ আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | বর্ষাকাল | রাত ১২:১৬

সোমবার | ২৪ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি | ১০ আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | বর্ষাকাল | রাত ১২:১৬

ধর্ম শবে মেরাজের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on pinterest
Share on telegram
  • ফজর
  • যোহর
  • আসর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যদয়
  • ভোর ৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ
  • দুপুর ১২:০৩ অপরাহ্ণ
  • বিকাল ১৬:৪০ অপরাহ্ণ
  • সন্ধ্যা ১৮:৫২ অপরাহ্ণ
  • রাত ২০:১৮ অপরাহ্ণ
  • ভোর ৫:১১ পূর্বাহ্ণ

ইসলামে পাঁচটি রাত বিশেষ ফজিলত ও তাৎপর্যপূর্ণ। পবিত্র শবে মেরাজ এর অন্যতম। এই রাতে রাসুলের (সা.) জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুজিজা বা অলৌকিক ঘটনাগুলোর একটি ‘মেরাজ’ সংঘটিত হয়। ২৬ রজব দিবাগত রাতে রাসুল (সা.) আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঊর্ধ্বাকাশে গমন করেন। ঐতিহাসিক সেই সফরকেই মেরাজ বলা হয়।

মেরাজ আরবি শব্দ, শাব্দিক অর্থ ঊর্ধ্বগমন, আকাশপথে ভ্রমণ করা, সোপান ইত্যাদি। রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে উম্মে হানির ঘর থেকে জাগ্রত অবস্থায় বোরাকে করে মসজিদে হারাম থেকে আরশে আজিমে পৌঁছে আল্লাহর দিদার লাভ করার নামই মেরাজ। কোরআনে কারিমে আল্লাহ বলেন, ‘পবিত্র সত্তা তিনি, যিনি বান্দাকে তার নিদর্শনগুলো দেখানোর জন্য রাত্রিকালে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত। যার পরিবেশ পবিত্র, নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ১)

নবুয়তের দশম বছরে আল্লাহর নবীর (সা.) ৫০ বছর বয়সে মেরাজের অলৌকিক ঘটনা অনুষ্ঠিত হয়। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, মেরাজের রাতে রাসুল (সা.) উম্মে হানি বিনতে আবু তালিবের ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। হঠাৎ হজরত জিব্রাইল (আ.) এসে রাসুলকে মসজিদে হারামে নিয়ে যান। যেখানে তার বুক বিদীর্ণ করে জমজম কূপের পানি দিয়ে সিনা ধুয়ে পরিষ্কার ও শক্তিশালী করা হয়। এ ঘটনাকে ‘শাক্কুস সদর’ বলে।

নবীজির (সা.) জীবনে অন্তত তিনবার এমনটি হয়েছে। তারপর সেখান থেকে তিনি ‘বোরাক’ নামক এক ঐশী বাহনে চড়ে বায়তুল মোকাদ্দাসে এসে সব নবীর ইমাম হয়ে ২ রাকাত নামাজ আদায় করেন। তারপর তিনি বোরাকে চড়ে ঊর্ধ্বে গমন করতে থাকেন। একের পর এক আসমান অতিক্রম করেন।

রাস্তায় হজরত মুসা (আ.)-সহ বেশ কয়েকজন নবী-রাসুলের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। সপ্তম আসমানের পর হজরত রাসুলুল্লাহকে (সা.)-কে বায়তুল মামুর পরিদর্শন করানো হয়। সেখানে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বচক্ষে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখেন। বায়তুল মামুরে হজরত জিব্রাইল (আ.)-কে রেখে তিনি ‘রফরফ’ নামক আরেকটি আসমানি বাহনে চড়ে মহান আল্লাহর দরবারে হাজির হন।

কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, মেরাজের রাতে রাসুল (সা.) আল্লাহ তায়ালার এতটা কাছাকাছি গিয়েছিলেন যে, দুজনের মধ্যখানে মাত্র এক ধনুক পরিমাণ ব্যবধান ছিল। এখানে হজরত রাসুলল্লাহ (সা.)-এর উম্মতের ওপর ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বারবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ উম্মতে মোহাম্মাদির ওপর ফরজ করেন, যা ইসলামের পাঁচটি রোকনের অন্যতম রোকন বা ভিত্তি। যেহেতু মেরাজের রাতে নামাজের নির্দেশ হয়েছে, এজন্য নামাজকে ‘মেরাজুল মুমিনিন’ বা মুমিনের মেরাজ বলা হয়।

শবে মেরাজ উম্মতের মোহাম্মাদির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার। নবীজি (সা.) আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টিকুলের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। তার উছিলায় আল্লাহ তায়ালা মহাজগতে অনেক আয়োজন করেছেন। তাই এমন একজন প্রিয় ব্যক্তিকে বিশেষ অভ্যর্থনার মাধ্যমে কাছে ডেকে নিয়েছেন। এ ছাড়াও আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় বন্ধুকে নিজের কাছে বিশেষ দাওয়াতের মাধ্যমে পার্থিব জগৎ ছেড়ে ঊর্ধ্বজগতে নেওয়ার মাধ্যমে পৃথিবীবাসীকে একটি আশ্চর্য ঘটনা উপহার দিয়েছেন। সে সময় রকেট, বিমান বা বর্তমান আধুনিক কোনো মাধ্যম ছাড়া খুব অল্প সময়ে এত কিছু ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন। সিদরাতুল মুনতাহা, জান্নাত-জাহান্নাম, সব ঘুরে দেখিয়েছেন ফেরেশতার মাধ্যমে। সহিহ বুখারির ৩৮৮৭ নং হাদিসে মেরাজের বৃত্তান্ত বর্ণিত হয়েছে।

মেরাজের ঘটনাকে অলীক কিংবা কাল্পনিক অথবা জাদুবিদ্যার বহিঃপ্রকাশ বলার কোনো সুযোগ নেই। মেরাজের ঘটনা পুরোটাই ঈমানের সঙ্গে সম্পর্কিত। এখানে বিশেষ ফজিলত মনে করে মনগড়া কোনো আমল বা রুসুম-রেওয়াজ পালনেরও সুযোগ নেই। বিশেষ করে আমাদের দেশে প্রচলিত মেরাজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিছিল-সমাবেশ, র‌্যালি, মেরাজের বিশেষ বাহন বোরাকের আকৃতিতে কোনো জন্তু বানিয়ে শোডাউন করা গর্হিত কাজ। এসব অনর্থক কাজ থেকে নিজেদের বিরত রেখে মেরাজের আসল তাৎপর্যকে অনুধাবন করতে হবে। বিশেষ করে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত হাদিয়া নামাজ সঠিক সময়ে আদায় করা। এ ছাড়াও শিরক না করা, পিতা-মাতার অবাধ্য আচরণ না করা, এতিমের মাল আত্মসাৎ করা থেকে বিরত থাকা, সম্পদের অপব্যবহার রোধ করা, খাদ্যাভাবে সন্তানকে হত্যা না করা, অহঙ্কার ও অনুমাননির্ভর কাজ থেকে বিরত থাকা, জিনা-ব্যভিচারের ধারেকাছেও না যাওয়া, প্রতিবেশীর হক আদায় করাসহ ইত্যাদি বিষয়ের শিক্ষা আমরা মেরাজের ঘটনা থেকে পাই।

শবে মেরাজ উপলক্ষে বিশেষ কোনো আমলের কথা শরিয়তে উল্লেখ করা হয়নি। তবে অন্যান্য দিনের মতোই এ রাতেও নফল ইবাদত করতে কোনো বাধা নেই। মহানবী (সা.) রমজানের প্রস্তুতি শুরু করতেন রজব মাস থেকেই। উম্মে সালমা (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) রমজান মাস ছাড়া সবচেয়ে বেশি রোজা পালন করতেন শাবান মাসে, অতঃপর রজব মাসে। হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, ‘যখন রজব মাস আসত, তা আমরা নবীজি (সা.)-এর আমলের আধিক্য দেখে বুঝতে পারতাম।’

কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায়, নবীজি (সা.) রজব মাসে ১০টি রোজা রাখতেন, শাবান মাসে ২০টি রোজা রাখতেন; রমজান মাসে ৩০টি রোজা রাখতেন। (দারিমি)। নফল নামাজ-রোজা যেকোনো রাতে করতে নিষেধ নেই, বরং উৎসাহিত করা হয়েছে। তাই এ রাতের নির্দিষ্ট কোনো আমলের কথা না বলা হলেও কেউ আল্লাহপ্রেমে রাতের নামাজ-তেলাওয়াতে মশগুল হলে অসংখ্যা সওয়াবের অধিকারী হবেন ইনশাল্লাহ। আল্লাহ বোঝার ও আমলা করার তাওফিক দিন। আমিন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on pinterest
Share on telegram

Leave a Comment

সর্বশেষ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

প্রেসক্লাবের পদ থেকে বদরুলকে অব্যাহতি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রেসক্লাবের সভাপতি পদ থেকে এবং ক্লাবের সকল কার্যক্রম থেকে বদরুল আলম মজুমদারকে অব্যাহতি দিয়েছে উত্তরা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি। গত ৩রা এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুকে কমিটির অফিসিয়াল মেসেঞ্জার গ্রুপে প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন আল আজাদ বরাবর পদত্যাগপত্র প্রেরণ করেন বদরুল আলম মজুমদার। পদত্যাগ পত্র জমা দেয়ার পর থেকে ক্লাবে

  • ফজর
  • যোহর
  • আসর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যদয়
  • ভোর ৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ
  • দুপুর ১২:০৩ অপরাহ্ণ
  • বিকাল ১৬:৪০ অপরাহ্ণ
  • সন্ধ্যা ১৮:৫২ অপরাহ্ণ
  • রাত ২০:১৮ অপরাহ্ণ
  • ভোর ৫:১১ পূর্বাহ্ণ