বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক:
আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে আগামী ২৯ জুলাই। দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত হয় দেশের দ্বিতীয় পার্লামেন্ট হিসেবে খ্যাত এই ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংসদের নির্বাচন। নানা জটিলতা ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে সেই নির্বাচনও স্থবির হয়ে পড়ে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেয় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, যারা গঠনতন্ত্র সংস্কার, আচরণবিধি প্রণয়নসহ একাধিক কাঠামোগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সক্রিয় ছাত্রসংগঠন মাঠে নেমেছে। অন্যান্য দলের পাশাপাশি ইসলামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারাও নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। বিশেষ করে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে।
সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আলাউদ্দীন জানান, তারা ২০১৯ সালের মতো এবারও পূর্ণ প্যানেলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও এখনো ভিপি (সহসভাপতি) ও জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে কারা প্রার্থী হবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, একাধিক নেতা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং চূড়ান্ত মনোনয়নের অপেক্ষায় আছেন।
ভিপি পদে কেন্দ্রীয় অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল খায়রুল আহসান মারজান অন্যতম আলোচিত নাম। তিনি এর আগে ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া আলোচনায় আছেন সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত এবং বর্তমান সভাপতি মুহাম্মদ আবু বকর।
জিএস পদে সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছেন মুহাম্মদ আলাউদ্দীন নিজেই। পাশাপাশি সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী এবং এজিএস পদে আরও কয়েকজন নেতার আগ্রহের কথা জানা গেছে।
এ বিষয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক মুহাম্মদ আশিকুল ইসলাম বলেন,
“আমরা ইতোমধ্যে একক প্যানেল গঠনের কাজ সম্পন্ন করেছি। তবে ক্যাম্পাসে ফ্যাসিবাদ বিরোধী অন্যান্য ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করার ব্যাপারে আলোচনা চলছে। পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলধারার রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে প্রভাবশালী সংগঠনগুলোর আধিপত্য থাকলেও, ইসলামপন্থী সংগঠনগুলো দৃশ্যমান সক্রিয়তা ও সাংগঠনিক প্রস্তুতির মাধ্যমে এবারও ডাকসু নির্বাচনে শক্ত অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে তারা কতটা ভালো করবে, তা নির্ভর করবে প্রচার, ঐক্য ও ছাত্রসমর্থনের বাস্তবচিত্রের ওপর।
বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচন আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ফিরে এসেছে অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির আগ্রহ ও আশাবাদ।