পাঁচ টাকার নোটে মুদ্রিত যে প্রাচীন স্থাপত্যটি আপনার নজর কাড়বে তা হলো “কুসুম্বা মসজিদ”। নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় অবস্থিত হোসেন শাহী যুগের উল্লেখযোগ্য এক স্থাপত্য নিদর্শন। মসজিদটির দূরত্ব নওগাঁ জেলাসদর থেকে ৩৫ কি.মি এবং মান্দা উপজেলা থেকে ৪ কি.মি প্রায়।
এই মসজিদটি দৈর্ঘ্যে ৫৮ ফুট ও প্রস্থে ৪২ ফুট প্রায়। মূল কাঠামো ইটের তৈরি হলেও বাইরের আবরণে দেয়া হয়েছে পাথর। দেয়ালগুলোর পুরুত্ব প্রায় ৬ ফুটের মত। মসজিদের প্রবেশ পথের শিলালিপিতে আরবিতে কিছু কথার উল্লেখ আছে।যা থেকে জানা যায়, গৌড়ের সুলতান হোসেন শাহের শাসনামলে মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল।এই শিলালিপি অনুযায়ী মসজিদটি ৯১০ হিজরী মোতাবেক ১৫০৩ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়েছিল।
তবে আরেকটি শিলালিপি অনুযায়ী জনৈক সোলেমান এটি নির্মাণ করেন ১৫৫৮-৫৯ খ্রিস্টাব্দে। এই সোলেমান সম্ভবত কালিগ্রাম পরগণার ধর্মান্তরিত জমিদার সোলেমান খাঁ (মজুমদার)।
মসজিদটি প্রতিষ্ঠা বিষয়ে জনপ্রিয় উপকথা আছে। কালিগ্রাম পরগণার জমিদার ছিলেন চিলমন মজুমদার। তিনি রাজস্ব ফাঁকি দেবার কারণে কারারুদ্ধ হন। পরে ইসলাম গ্রহণ করে সোলেমান খাঁ নামধারণ করেন ও রাজস্বের দায় থেকে মুক্ত হন।কারামুক্ত হয়ে তিনি এই মসজিদটি তৈরি করেন।তাঁর স্ত্রীর ধর্মান্তরের পর নাম হয় সোনা বিবি।স্ত্রীর ইবাদাতের জন্য তিনি মসজিদটি তৈরি করেন।
মসজিদে দুই সারিতে তিনটি করে মোট ছয়টি গম্বুজ ছিল। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে তিনটি গম্বুজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।পরে সেগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংস্কার করে। মসজিদটির মেহরাবগুলো কষ্টিপাথরে নির্মিত ও নানারকম কারুকার্যখচিত।মেহরাবে আঙ্গুরগুচ্ছ ও লতাপাতার নকশা খোদিত রয়েছে।মসজিদের প্রবেশপথে তিনটি দরজা দেখা যায়। প্রথম দুটির তুলনায় অপরটি তুলনামূলক ছোট। মসজিদের দক্ষিণদিকে একসময় কালো পাথরে নির্মিত কারুকার্যখচিত তোরণদ্বার ছিলো, যা এখন আর নেই। মসজিদ সংলগ্ন উত্তর-দক্ষিণ দিকে রয়েছে ৭৭ বিঘা বিশিষ্ট একটি বিশাল দিঘি রয়েছে।
সর্বশেষে বলা যায়, প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও কুসুম্বা মসজিদ যে অনন্য এক স্থাপত্য নিদর্শন তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।