শনিবার | ৪ ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৮ রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি | ১৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | হেমন্তকাল | দুপুর ২:০৭

শনিবার | ৪ ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৮ রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি | ১৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | হেমন্তকাল | দুপুর ২:০৭

  • ফজর
  • যোহর
  • আসর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যদয়
  • ভোর ৫:১০ পূর্বাহ্ণ
  • দুপুর ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
  • বিকাল ১৫:৩৫ অপরাহ্ণ
  • সন্ধ্যা ১৭:১৪ অপরাহ্ণ
  • রাত ১৮:৩২ অপরাহ্ণ
  • ভোর ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ

চরমোনাই’র অগ্রহায়ণ মাহফিল’২১ উপলক্ষ্যে বিশেষ নির্দেশনা প্রকাশ করেছে বামুক

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on pinterest
Share on telegram

চরমোনাই’র অগ্রহায়ণ মাহফিল উপলক্ষ্যে বিশেষ নির্দেশনা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি।

বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির সেক্রেটারী জেনারেল খন্দকার গোলাম মাওলা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানিতে আগামী ২৩, ২৪, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বাংলা, মোতাবেক ০৮, ০৯, ১০ ডিসেম্বর ২০২১ ইংরেজি রোজ বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার চরমোনাই’র বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, ইনশাআল্লাহ।

এ বছর চরমোনাই’র অগ্রহায়ণের মাহফিল উপলক্ষে দেশ-বিদেশের বহু ওলামা-মাশায়েখ, বুদ্ধিজীবি ও উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিবর্গ চরমোনাই’র মাহফিলে উপস্থিত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। এছাড়া দেশের সর্বস্তরের ইসলামপ্রিয় তৌহিদী জনতার আসন্ন মাহফিলে ব্যাপক অংশগ্রহণের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এমতাবস্থায় মাহফিলের শৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে নিম্নোক্ত দিক-নির্দেশনা প্রদান করা হলো:

১. মাহফিলে আসার প্রস্তুতি ও মাঠে প্রবেশের নির্ধারিত সময়-
মুজাহিদগণ এলাকা বা হালকা ভিত্তিক কাফেলা তৈরি করবেন। কাফেলায় একজন আমীর থাকবেন। তিনি কাফেলার সকল সদস্যের মোবাইল নম্বরসহ নাম তালিকাভূক্ত করবেন এবং চার দিনের সফরের প্রয়োজনীয় অর্থ ও সামানা সংগ্রহের কাজ তদারকি করবেন।

মাহফিল শুরু হওয়ার তিন দিনের পূর্বে চরমোনাই ময়দানে আসা ও অবস্থান গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষেধ। মাহফিল মাঠে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জায়গা দখল করে রাখা যাবে না। যদি কেউ একা এসে থাকেন তাহলে একজনের জায়গা নিবেন। একাধিক ব্যক্তি এসে থাকলে যতজন আসবেন ততজনের জায়গা নিবেন। কোনো অবস্থাতেই কাফেলার জন্য আগে এসে জায়গা রাখা যাবে না।

২. মাহফিলে যারা সড়ক পথে গাড়ি যোগে আসবেন তাদের করণীয়:
সময় হাতে থাকতেই কাফেলার সামানা প্রস্তুত করে নিতে হবে। যাতায়াতের জন্য গাড়ি রিজার্ভ করে রাখতে হবে। গাড়িতে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত কোনো যাত্রি যেন না নেয়া হয় সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। যাত্রাপথে কোনো সাথী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। চরমোনাই বিশ্বাসের হাট ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বে মাহফিলের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য সু-ব্যবস্থা করা হয়েছে। পার্কিংয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী গাড়িতে যাত্রী ওঠা-নামা করবে। কোনো অবস্থাতেই যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং অথবা যাত্রী ওঠা-নামা করতে পারবে না। এখানে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য কোনো টাকা দিতে হবে না। কেউ টাকা চাইলে সাথে সাথে তাকে ধরে স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে সোপর্দ করতে হবে।

মাহফিল শেষে সকল বাস একসাথে বের হওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করবেন না। অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশনা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে বের হতে হবে। গাড়ি ছাড়ার পূর্বে সকল সাথী গাড়িতে উঠেছে কী-না, লক্ষ রাখতে হবে।

৩. মাহফিলে যারা লঞ্চ/ট্রলারে আসবেন তাদের করণীয়:
সময় হাতে থাকতেই কাফেলার সামানা প্রস্তুত করে নিতে হবে। যাতায়াতের জন্য লঞ্চ/ট্রলার রিজার্ভ করে রাখতে হবে। নির্ধারিত লঞ্চ/ট্রলারে যাতে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রি না নেয়া হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

যাত্রাপথে কোন সাথী অসুস্থ হয়ে পড়লে জরুরি ভিত্তিতে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। মাহফিলের লঞ্চ/ট্রলার ঘাটে দায়িত্বে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের দিক-নির্দেশনা অনুয়ায়ী লঞ্চ/ট্রলারের যাত্রী ওঠা-নামা করবে। কোনো ক্রমেই যেখানে সেখানে লঞ্চ/ট্রলারের যাত্রী ওঠা-নামা করতে পারবে না। ঘাটের জন্য কোনো টাকা দিতে হবে না। কেউ টাকা চাইলে সাথে সাথে তাকে ধরে স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে সোপর্দ করতে হবে।

মাহফিল শেষে সকল লঞ্চ/ট্রলার একসাথে বের হওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করবেন না। অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশনা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে বের হতে হবে। যারা ট্রলার যোগে মাহফিলে আসবেন তারা এমন সময় রওনা করবেন, যাতে সূর্য ডোবার আগেই চরমোনাই পৌঁছতে পারেন। কেননা, নৌপথে রাত্রে যাতায়াত নিরাপদ নয়। ঢাকা, চাঁদপুর ও বরিশাল লঞ্চ টার্মিনালে স্ব স্ব জেলার স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী মোতায়েন থাকবে। লঞ্চে ওঠা-নামায় কোনো ধরণের তাড়াহুড়া করবেন না। সারিবদ্ধভাবে শৃঙ্খলার সাথে ওঠা-নামা করবেন।

৪. মাহফিলে আসার পর করণীয়:
মাহফিল মাঠে এসে যেখানে যায়গা পাবেন সেখানেই থাকার ব্যবস্থা করবেন। জায়গা নিয়ে কোনো রূপ ঝগড়া করা যাবে না। কোনো সমস্যা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেচ্ছাসেবকের সহযোগিতা নিতে হবে। মাহফিলে আগত সকল কাফেলার আমীর/জিম্মাদার তার কাফেলার সকল সাথীদের নাম ও মোবাইল নাম্বার সংরক্ষণ করবেন।

সকল সাথীকে আমীর/জিম্মাদার ও কাফেলার ২/৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মোবাইল নম্বর, মাঠ নম্বর, হালকা নম্বর ও খুঁটি নম্বর লিখে সাথে দিয়ে দিবেন এবং সাথীগণ তা সংরক্ষণ করবেন। যাতে মাহফিলে হারিয়ে গেলে আমীরের সাথে বা আমীর তার সাথীদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তাছাড়া মাঠ নম্বর, হালকা নম্বর ও খুটি নম্বর সাথে থাকলে যেকোনো স্বেচ্ছাসেবক তার কাফেলার অবস্থান বলে দিতে পারবে।

বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির সর্বস্তরের দায়িত্বশীল বিশেষ করে জিলা পর্যায়ের ছদর ও সাধারণ সম্পাদকগণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে মাঠ দখলমুক্ত রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবক দলের সাথে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে সর্বত সাহায্য করবেন।

৫. মাহফিল চলাকালীন সময়ে করণীয়:
মাহফিল চলাকালীন সময়ে নতুন সাথীদেরকে বাদ ফজর ও বাদ মাগরিব আমীরুল মুজাহিদীন ও নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীনের বয়ান গুরুত্বের সাথে উপস্থিত রেখে শোনাতে হবে।

মাহফিলে অন্যান্য সময়ে অতিথি ওলামা-মাশায়েখের বয়ানও গুরুত্ব দিয়ে শোনানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রতিদিন সকাল ৯টা হতে মাঠে সকল হালকায় তালীম ও যিকিরের মজলিসে মাহফিলে আগত নতুন ও পুরাতন সাথীদেরকে নিয়ে অবশ্যই বসবেন।

মাহফিলের মাঠে কোনো ধরণের লাকড়ির চুলা ব্যবহার করা যাবে না। মাঠে কোনো গর্ত করা যাবে না। বয়ান চলাকালীন কোনো প্রকারের রান্নাবান্না ও হাঁটাচলা করা যাবে না। বিশেষ করে সকাল-সন্ধ্যার বয়ানের সময়ে।

মাঠের কোনো লাইট-মাইকে হাত দেয়া যাবে না। সমস্যা হলে সেচ্ছাসেবকদের জানাতে হবে।

মাহফিল চলাকালীন সময়ে অসুস্থ রোগীদের সু-চিকিৎসার জন্য মাহফিলের অস্থায়ী হাসপাতাল ও অভিজ্ঞ ডাক্তারের ব্যবস্থা রয়েছে। আপনার/আপনাদের কাফেলার কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে আপনার পার্শ্ববর্তী স্বেচ্ছাসেবক ক্যম্পে যোগাযোগ করবেন। স্বেচ্ছাসেবকগণ অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করবেন।

মাহফিল হাসপাতালের সামনে ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান থাকবে, সখান থেকে আপনার প্রয়োজনীয় ওষুধ খরিদ করার জন্য পরামর্শ দেয়া গেল।

যে সকল ব্যক্তিগণ লঞ্চ/বাস রিজার্ভ করবেন তারা যাত্রীদের নিকট হতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে পারবেন না। যাতে সাধারণ যাত্রীরা জুলুমের শিকার না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

বিভাগের আওতাধীন কোনো জেলা হতে কতটি গাড়ি/ লঞ্চ/ ট্রলার রিজার্ভ করে এসেছে তার পরিসংখ্যান বিভাগীয় কমিটির কাছে থাকতে হবে।

পরিশেষে শৃঙ্খলার স্বার্থে চরমোনাই’র মাহফিলের স্বেচ্ছাসেবক ছাড়া মুজাহিদ কমিটির অন্য কোনো বিভাগ, জিলার স্বেচ্ছাসেবক এবং দীন কায়েম সংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের কোনো শাখার স্বেচ্ছাসেবকগণ চরমোনাই’র মাহফিলে তাদের কটি/স্বেচ্ছাসেবক ড্রেস ব্যবহার করতে পারবেন না।

আশা করি অন্যান্য বছরের ন্যায় এবছরও দেশের সব এলাকা থেকেই আমাদের দায়িত্বশীল এবং মুজাহিদ ভাইয়েরা আল্লাহর নতুন নতুন বান্দাদের নিয়ে যথা সময়ে সদলবলে মাহফিলে উপস্থিত হবেন।

এ বিষয়টা সকলেরই মনে থাকার কথা যে, আমরা যখন দলবদ্ধভাবে কোথাও যেতাম, আশপাশের লোকজন বুঝতে পারতো যে- এরা চরমোনাই’র মুজাহিদ। কারণ, সে সময় আমাদের জবানে সমবেত কন্ঠে সুমধুর স্বরে আল্লাহ পাকের যিকির “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” উচ্চারিত হত। কিন্তু আফসোস এখন আর সচরাচর সে মধুর ধ্বনিতে আল্লাহর জমিন মুখরিত হতে দেখা যায় না। মনে হয় যেন নিস্প্রাণ মুজাহিদদের পদচারণা হচ্ছে মাত্র। প্রতিনিয়ত হাজার হাজার নতুন মুজাহিদদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু সবই যেন প্রাণহীন। তাই মুজাহিদ কমিটির সর্বস্তরের দায়িত্বশীল এবং মুজাহিদ ভাইদের প্রতি অনুরোধ, আমরা আসন্ন অগ্রহায়ণের মাহফিল থেকেই আবার সমবেত কন্ঠে “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর জলি যিকির দ্বারা মুখরিত করে তুলি আল্লাহর জমিন। চরমোনাই অভিমুখে যাত্রাকাল হতে শেষাবদি সমবেতভাবে জলি যিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর প্রত্যেকটি বান্দার কানে পৌঁছে দেই কালিমার দাওয়াত। মানব জাতির চিরশত্রু অভিশপ্ত শয়তান এবং নফছের সাথে সার্বক্ষনিক জিহাদের উত্তম হাতিয়ার আল্লাহ পাকের এই যিকিরে জলি ধ্বনিত হোক বাংলার ঘরে ঘরে।

থেকে আরো পড়ুন

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on pinterest
Share on telegram

Leave a Comment

  • ফজর
  • যোহর
  • আসর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যদয়
  • ভোর ৫:১০ পূর্বাহ্ণ
  • দুপুর ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
  • বিকাল ১৫:৩৫ অপরাহ্ণ
  • সন্ধ্যা ১৭:১৪ অপরাহ্ণ
  • রাত ১৮:৩২ অপরাহ্ণ
  • ভোর ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ঢাবি কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন চবি!

জাতীয় বিতর্ক সংসদের আয়োজনে আন্ত:ক্যাম্পাস বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২১ এর ফলাফল ঘোষণা। ঢাবিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং ক্লাব। মাধুর্যময় তর্কে চিত্তের বিকাশ এ স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় আন্ত:ক্যাম্পাস বিতর্ক প্রতিযোগিতা। এতে অংশগ্রহণ করেন দেশ সেরা বিভিন্ন ক্যাম্পাসের বিতর্ক ক্লাব সমূহ। সকল রাউন্ড শেষে ফাইনালে মুখোমুখি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়