নয় দফা দাবিতে বামপন্থীদের ধর্ষণবিরোধী লংমার্চ চলাকালে ফেনীতে হামলা: আহত ১০

ধর্ষণের বিরুদ্ধে নয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশে লংমার্চকারীদের উপর আজ শনিবার দুপুরে এক হামলা হয়। ফেনী শহরের শান্তি কোম্পানি মোড় এলাকায় হামলা চালায় একদল যুবক।

লংমার্চে থাকা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি আল কাদরি জয় জানান, ফেনীতে সমাবেশ শেষে নোয়াখালী রওনা হতে বাসে ওঠার সময় লাঠিসোঁটা ইট নিয়ে এই হামলা হয়। অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে হৃদয়, আনিকা, ইমার নাম জানা গেছে।

হামলাকারীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী বলে স্থানীয়দের বরাতে অভিযোগ করেন জয়।

হামলার বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন জানান, হামলাকারীদের প্রতিহত করা চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনার পর লংমার্চে অংশকারীদের নোয়াখালী পাঠানো হয়েছে।

ধর্ষণ ও ‘বিচারহীনতা’র প্রতিবাদে ৯ দফা দাবিতে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দিকে লংমার্চ শুরু হয়। ১৭ অক্টোবর নোয়াখালী শহরের মাইজদীতে গিয়ে লংমার্চ পরবর্তী সমাবেশ করে ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে লংমার্চ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ-সভাপতি সাদিকুল ইসলাম জানান, নোয়াখালীতে সাড়ে চারশ’ নেতাকর্মী গিয়েছেন।

লংমার্চে অংশগ্রহণকারী ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, ধর্ষণবিরোধী ৯ দফা কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমাদের প্রতিবাদ চলছে।

৯ দফা দাবি হলো-

১. সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার সঙ্গে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ নির্যাতন বন্ধ ও বিচারে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।

২. পাহাড়-সমতলের নারীদের ওপর সামরিক-বেসামরিক সব ধরনের যৌন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।

৩. হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনবিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে। বাংলাদেশকে সিডো সনদে স্বাক্ষর পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে।

৪. ধর্মীয়সহ সব ধরনের সভা-সমাবেশে নারীবিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা ও বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে বিটিসিএলের কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চায় সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে।

৫. তদন্তকালীন ভিকটিমকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ভিকটিমের আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে অনিষ্পন্ন সব মামলা দ্রুত নিষ্পন্ন করতে হবে।

৭. ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন-১৮৭২ এর ১৫৫(৪) ধারা বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্যগ্রহণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হব।

৮. পাঠ্যপুস্তকে নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক যেকোনো প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছেদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দ পরিহার করতে হবে।

এবং
৯. গ্রামীণ সালিশের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

উল্লেখ্য, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে গণজমায়েত কর্মসূচি শুরু করেন বামপন্থী কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আরো পড়ুন পোস্ট করেছেন

Comments

লোড হচ্ছে...