মুফতি ফয়জুল করিম: আপনি এরদোয়ান হয়ে উঠুন

আপনার রাজনৈতিক সম্ভাবনা বিপুল। যদি ইসলামপন্থী না হতেন; ভারতের বিরুদ্ধে বজ্রকঠিন সুদৃঢ় অবস্থানের কারণে আপনি তারেক জিয়ার চেয়ে জনপ্রিয় জাতীয়তাবাদী নেতা হতেন। লাখো জনতাকে বিপ্লবের জন্য রক্ত ঢেলে দিতে প্রস্তুত করতে আপনার মাত্র ২ মিনিটের এক জ্বালাময়ী ভাষণ যথেষ্ঠ।

আপনি বলেছেন অনুসারীদের নিয়ে আপনি বারবার রক্ত দিবেন না। আপনি রক্ত দিবেন একবার। এখনই সেই সময়।ধর্ষিতার ইজ্জত রক্ষায় আপনার রক্ত ঢালুন।

ঘরে ঢুকে রাতের অন্ধকারে স্বামীর কাছ থেকে আলাদা করে একজন নারীকে খুবলে খাওয়ার পর রক্ত দেয়ার আর কোন উত্তম সময় আসবেনা। স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে ক্ষমতাসীনদের ধর্ষণ উল্লাসের চেয়ে চূড়ান্ত জিহাদের নাজুক পরিস্থিতি আর হতে পারে না।

আপনি ঢাকায় আসুন। প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার ধর্মঘটে বসে পড়ুন। ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করে তারপর বরিশাল ফিরুন।

আপনি রাস্তায় নামুন। জনগণকে ডাকুন। এটাই সময় আপনার কেজরিওয়াল হয়ে ওঠার। এটাই সময় আপনার ইমরান খান হয়ে ওঠার। সময়কে ধারণ করতে না পারলে যেমন রমণী গর্ভবতী হয় না; এই সময়টাকে যদি আপনি ধারণ করতে না পারেন আপনার পক্ষে সত্যিকারের জননেতা ও সর্বজনীন জাতীয় নেতা হয়ে ওঠা আর কোনদিন সম্ভব হবে না। আপনি হয়তো একজন ধর্মীয় নেতা এবং একটি দলের নেতা হয়েই থাকবেন।

কিন্তু আপনার অনুসারী ও শুভাকাঙ্খীরা বিশ্বাস করে, আপনার যে অপরিমেয় সাহস, শান্ত স্থির জনসমাবেশকে গর্জনে গর্জনে মহা সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে পরিণত করার আপনার যে কারিশমাটিক লিডারশিপ, আপনার উচ্চারণে যে স্পষ্টতা, চাহনিতে যে ব্যাঘ্রতা, ভাষণে যে আত্মপ্রত্যয় এসব আপনাকে সত্যিকারের একজন দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় নেতায় পরিণত করার জন্য যথেষ্ট।

রাজনৈতিক মঞ্চে আপনি বেশি মানানসই। মাহফিলের আকিদাগত বয়ান আপনার মাঝে এবং জনগণের অন্যান্য মতাদর্শ ধারকদের মাঝে একটি বিস্তর ফারাক তৈরি করে রেখেছে। আপনি দেশের শীর্ষ ১০ আলেমের একজন হবেন। দরসে বয়ানে সর্বত্র আপনার বিচরণের দক্ষতা আছে। তবু আপনি পুরোদমে রাজনীতি চর্চা করুন। আকিদাহ মাসাআলাগত আলোচনা বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে,জাতীয় মুক্তির স্বার্থে বন্ধ রাখুন। মাহফিল বয়ান তাযকিয়া আপনি ছেড়ে দিলেও বন্ধ থাকবে না। কিন্তু রাজনীতিতে আপনাকে বড্ড প্রয়োজন। এখানে আপনার বিকল্প নাই। আপনার কর্ম পরিধি কিছুটা গুটিয়ে এনে সুনির্দিষ্ট করুন। এতে আপনার সাফল্য আসবে অবিশ্বাস্য দ্রুততায়।

আপনি সর্বজনীন নেতা হয়ে উঠুন। সকলের ভরসাস্থল হয়ে উঠুন। আপনি রাজপথের সেনাপতি হয়ে তারুণ্যকে ধর্ষণ ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত জিহাদের নেতৃত্ব দিন।

এখনি সময় আপনার আন্না হাজারে হয়ে উঠার। বাংলার এরদোয়ান, তিউনিসিয়ার ঘানুশী, ইরানের আহমাদিনেজাদ হবার সুবর্ণ সুযোগ ও সম্ভাবনার হাতছানি আপনাকে ডাকছে। আপনি শুনতে পান কি?

আপনি রাজপথে আসুন। লাগাতার ধর্মঘটে অনুসারীদের নিয়ে বসে পড়ুন। আপনি বাংলার এরদোয়ান হয়ে উঠুন। ধর্ষিতা নারীর “ওয়াজআল লানা মিল লাদুংকা ওয়ালিয়্যান নাসিরান” হয়ে উঠুন।

আপনি সময়ের ডাকে সাড়া দিন। সময়কে ধারণ করে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হোন।

শুধু দলীয় লোকজনকে নিয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন নয়; আপনি সব দল মত নিয়ে “জাতীয় সংকট সংলাপ” গড়ে তুলুন। ইসলামপন্থী বাংলাদেশপন্থী ও ইনসাফ পন্থীদের নিয়ে বৃহত্তর প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তুলুন।

আপনি সকল নেতার কাছে সকল দলের কাছে দুয়ারে দুয়ারে ছুটে চলুন। সবার কাছে যান সবাইকে আসতে দেন। সবাইকে সাথে নিয়ে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন।

সর্বোচ্চ উদারতায় সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় ইনসাফ ও নাগরিক অধিকারের নারী নিরাপত্তার বাংলাদেশ গঠনে এই প্রজন্মের অন্যতম স্বপ্ন পুরুষ হিসেবে আপনি আপনার ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনে ঢাকায় আসুন। বিপ্লবের আজান দিয়ে রাজপথে নেমে পড়ুন।

অতীতের অসতর্ক অনৈক্য সৃষ্টিকারী বিতর্কিত একাডেমিক বক্তব্য থেকে আপনি সরে আসুন। আকিদা ও মাসলাকের তাত্ত্বিক বয়ান ছেড়ে গণমুক্তির লক্ষ্যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের বয়ান শুরু করুন।

দলের নয়; নির্দিষ্ট আকিদার নয়; সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের সর্বদলের মাঝে গ্রহণযোগ্য একজন তরুণ নেতা হিসেবে আপনি নিজেকে প্রস্তুত করুন।

এখনই সেই সময়….
আপনি দরবার ছেড়ে দরিয়ায় নামুন। মাঝিহীন দিকভ্রান্ত জনতার নৌকা নিয়ে উত্তাল ঢেউয়ের সাথে জীবন মরণ খেলায় নেমে পড়ুন।

আপনি জেল-জুলুম নির্যাতনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন।

আকিদা মাসলাক মাযহাব আদর্শ নির্বিশেষে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিয়ে একটি সর্বজনীন ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করুন।

রোহিঙ্গাদের রক্ষায় নাফ নদী সাঁতার কেটে আপনি ওপারে যেতে চেয়েছেন; বঙ্গভবন গণভবনের দেওয়াল টপকে এ দেশের নারীদের উদ্ধারে আপনার চূড়ান্ত সংগ্রাম শুরু করুন।

নির্দিষ্ট ঘরানার আলেম-ওলামা ও অনুসারী নয়; আপনি সবাইকে ধারণ করতে মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। সবাইকে সাথে নিয়ে চলতে শুরু করুন। সবার সাথে আলোচনায় বসতে থাকুন।

সৌদির কারাগারে আপনি জেল খেটেছেন। কাজেই বাংলাদেশের জেল-জুলুমকে আপনার ভয় পাওয়ার কথা নয়। আপনি কারানির্যাতন কে সহাস্যে বরণ করুন।

মৃদুমন্দ বিক্ষোভ মিছিল বিবৃতি ভাষণ নয়; আপনি শাহ আব্দুল আযীয হয়ে সর্বাত্মক জিহাদের ফতুয়া দিন।

গণতন্ত্র মুজাহিদের হাত থেকে তরবারি কেড়ে নিয়েছে। সেই গণতন্ত্র হত্যা করে যখন নারী ও শিশুর উপর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নির্বিচার জুলুম হয়; প্রকাশ্যে পিটিয়ে মানুষকে খুন করা হয়; অর্থনীতি ধ্বংস করে দেশকে পঙ্গু করা হয়; স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে প্রতিবেশীর হাতে তুলে দেয়া হয়; আপনি তখন সৈয়দ আহমদ বেরলভী থেকে টিপু সুলতান তিতুমীরের উত্তরাধিকার হয়ে পুনরায় যুদ্ধাস্ত্র তুলে নিন।

আপনি একটি যুদ্ধ ঘোষণা দিন। সেই যুদ্ধের সেনাপতিত্বের মরণজয়ী চ্যালেঞ্জ কাঁধে তুলে নিন।

সাবেক চৌকস ছাত্র নেতাদের মধ্য থেকে আপনার কিছু সার্বক্ষণিক সঙ্গী বাছাই করুন। শুধু ওলামাদের দুয়ারে নয়; দেশের প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দুয়ারে যাতায়াত বৃদ্ধি করুন।

সকল রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে আপনার পিতার মত করে ছুটে চলুন।

আপনার যে হিম্মত, যোগ্যতা, দরাজ কণ্ঠ, দুর্দমনীয় সাহস; তাতে শুধুমাত্র দলীয় রাজনীতিতে আপনার পদচারণা বেমানান ও হতাশা ব্যঞ্জক। দল তরীকা গৌষ্ঠীর ঊর্ধ্বে আপনি সর্বদলীয় সর্বজনীন নেতা হয়ে উঠুন।

পীর নয়; হযরত নয়; শায়খ নয়; সাহেব নয়; আপনি জননেতা ও জনগণের ‘ভাই’ হয়ে উঠুন।

মামুন ভাইয়ের মতো দেশের সাধারন জনতা যেন আপনাকে পরম মমতায় ‘ভাই’ ডেকে নেতা মেনে মাথায় রাখতে পারে সে লক্ষ্যেই ফুলটাইম রাজনীতিতে আপনার পুনর্জন্ম হোক।

আপনি হয়ে উঠুন এই সময়ের ভাগ্যাহত বাঙালির “মুজিব ভাই” কিংবা কোদাল হাতে খাল কাটা জিয়া।

আরো পড়ুন পোস্ট করেছেন

Comments

লোড হচ্ছে...