পরিবারকে সময় দিন

নাইমুর রহমান

পরিবার একটি নির্ভরতার নাম, একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল এর নাম। যাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠছে সমাজ ও রাষ্ট্র। পরিবার হলো সমাজের মূলভিত্তি এবং মানুষ গড়ার কেন্দ্র। পরিবার এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে অনেকগুলো আত্মা এক সুতোয় বাধা থাকে।

কিন্তু বর্তমান এই ব্যস্ত, যান্ত্রিক সময়ের মায়াজালে পড়ে আমরা আজ সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। কেউবা ছুটছি অর্থের পেছনে ,কেউবা ছুটছি নিজ নিজ ক্যারিয়ারে পেছনে।যার ফলশ্রুতিতে আমরা পাশের বাড়ির কারো খোজ নেয়া তো দুরে থাক কখনো কখনো এক ছাদের নিচে বাস করা পাশের রুমের পরিবারের অন্য সদস্যদেরই খোজ নিয়ে উঠতে পারিনা। কখনো কখনো পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে প্রয়োজনীয় কথা ছাড়া একসাথে বসে আলাপ আলোচনার সুযোগ হয়ে উঠেনা।

প্রযুক্তির উৎকর্ষতার ফলে দিন দিন আমরা হয়ে উঠছি যান্ত্রিক। হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য, পারিবারিক বন্ধন। পরিবারের বন্ধনগুলো খুব দুর্বল হয়ে যাবার কারণে পরিবারের সকলের মাঝে তৈরি হচ্ছে ভিন্ন চিন্তাধারা, একজন অন্যজনকে সম্মান করছেনা, সবাই হয়ে উঠছে অসহনশীল। যার ফলে সমাজে বাড়ছে ভয়াবহ কিছু অপরাধ, বাড়ছে পরকীয়া, বাবা মা হত্যা করছে তার সন্তানকে, সন্তান হত্যা করছে তার বাবা মাকে। অনেক সময় বাবা মা জানছে না সন্তান কি করছে, কার সাথে মিশছে। যার ফলে সন্তান কখনো কখনো হয়ে উঠছে বখাটে নেশাসক্ত।

বর্তমান সময়ে বহুল আলোচিত জংগিবাদের নামে যেসকল যুবক বিপথগামী হয়ে উঠেছিলো তারাও ছিল পারিবারিক বন্ধন থেকে ছিন্ন। পরিবারের অন্য সদস্যদের অবহেলা কিম্বা বাবা মায়ের পরিবারে সময় না দেয়ার কারণে তারা হয়ে উঠেছিলো বিপথগামী ।কিন্তু আমরা যদি একটু সচেতন হই, নিজেদের ব্যস্ত সময় থেকে একটু সময় বের করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকি তাহলেই কিন্তু আমাদের পরিবার হয়ে উঠভে এক একটি শান্তিরনীড়। পরিবারে তৈরি হয় এক সুখের আবহ।

পরিবারকে সময় দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা নিচের বিষয় গুলু খেয়াল রাখতে পারিঃ
• সম্ভব হলে পরিবারের সকলকে নিয়ে একসাথে রাতের খাবার করার চেষ্টা করুন
• সাপ্তাহিক ছুটির দিনটা শুধুমাত্র পরিবারের জন্য বরাদ্দ রাখুন
• সন্তানদের আলাদাভাবে সময় দিন। তাদের মানসিকতা বুঝার চেষ্টা করুন। যতটা সম্ভব তাদের ঘনিষ্ঠজন হবার চেষ্টা করুন
• সন্তানরা কাদের সাথে মেলামেশা করে তার খোজ নিন
• পরিবারের সকলকে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার যথাযথ শিক্ষা দিন
• সপ্তাহে একদিন পরিবারের সকলকে নিয়ে বসুন। তাদের সাথে পরিবারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন
• বাবা মা বৃদ্ধ হলে তাদেরকে সময় দিন, তাদের সাথে মন খুলে কথা বলুন
• সময় করে পরিবারের সকলকে নিয়ে দূরে কোথাও ভ্রমনে যেতে পারেন
• পরিবারের সকল কাজে স্বামী স্ত্রী দুজনের অংশগ্রহন নিশ্চিত করুন।
• পরিবারের সকল সদস্যদের মাঝে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করুন
• সন্তানদের ক্ষেত্রে বাবা মা আপনার কাছে কি প্রত্যাশা করে সে অনুযায়ি চলার চেষ্টা করুন
• বাবা মায়ের কাজে সাহায্য করুন, ঘরের টুকিটাকি কাজ করার চেষ্টা করুন
• ভাইবোনদের সাথে সহজে মেশার চেষ্টা করুন, তাদের কাছের বন্ধু হবার চেষ্টা করুন
• পরিবারের অন্য সদস্যের প্রতি সহানুভুতিশীল হবার চেষ্টা করুন
• সর্বোপরি ভালোবাসুন পরিবারের প্রতিটি মানুষকে, পাশে থাকুন তার প্রতিটি অনুভূতির।

আরো পড়ুন পোস্ট করেছেন

Comments

লোড হচ্ছে...
শেয়ার হয়েছে