একুশে স্মৃতি পদক পেলেন অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী

শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখায় একুশে স্মৃতি পদক পেলেন চরমোনাই আহছানাবাদ রশীদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী।

বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি’২১) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে একুশে স্মৃতি পরিষদের পক্ষ থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁকে এ সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়।

একুশে স্মৃতি পরিষদের উপদেষ্টা আলহাজ্ব আকবর হোসেন সহ অন্যান্য বক্তব্যে মাওলানা মাদানী সম্পর্কে বলেন, চরমোনাই মাদরাসা শুধুমাত্র একটি মাদরাসা নয় বরং একটি বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে সাধারণত মাদরাসা শিক্ষার পাশাপাশি তিনটি বিষয়ে অনার্স, পৃথক কম্পিউটার ল্যাব, বিজ্ঞান বিভাগ এবং কারিগরি বিভাগ এ মাদরাসাকে অন্যান্য মাদরাসা থেকে আলাদা বৈশিষ্টমণ্ডিত করেছে, যা সত্যিই অতুলনীয়। এছাড়াও অধ্যক্ষ মাওলানা মাদানী শুধুমাত্র মাদরাসা পড়ুয়া একজন আলেম নন বরং তিনি মাদরাসা শিক্ষা সম্পন্ন করে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করে মদীনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেন। যা তার ব্যক্তিত্বকে অসামান্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অধ্যক্ষ মাওলানা মাদানী তার বক্তব্যে বলেন, এ উপমহাদেশে একসময় আলেম-ওলামাগণ শাসনক্ষমতায় ছিলেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমরা সে স্বর্ণালি ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছি। তাই চরমোনাই মাদরাসা হাজার হাজার আলেম গড়ার পাশাপাশি বহু শিক্ষার্থীকে মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংএ পড়াশোনার যোগ্য করে গড়ে তুলছি, যারা ইতোমধ্যে দেশের মুখ উজ্জ্বল করে চলেছে।

অধ্যক্ষ মাওলানা মাদানী তাঁর সদ্য পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করা বড় ছেলে ড. সৈয়দ মাবরুক বিল্লাহর উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমি চাই আমার ছেলেদের মত চরমোনাই সহ সারাদেশের মাদরাসা শিক্ষার্থীরা জ্ঞানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে আবারো দেশ ও জাতির নেতৃত্বের যায়গায় সমাসীন হোক।

“একুশে স্মৃতি পদক পেয়ে আপনার অনুভূতি কি?” প্রেজেন্ট নিউজের এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, “এ অর্জন আমার মরহুম বাবাজান সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. এর দোয়া ও স্বপ্নের প্রতিফলন। তিনি আরো বলেন, এ অর্জন শুধু আমার নয় বরং চরমোনাই মাদরাসার সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ সংশ্লিষ্ট সকলের।”

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি এম ফারুক, সাবেক ডিআইজি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ, সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর উদ্দীন আহমেদ, আইপি টিভির সম্পাদক মুহাম্মাদ আতাউল্লাহ খান প্রমুখ।

আরো পড়ুন পোস্ট করেছেন

Comments

লোড হচ্ছে...
শেয়ার হয়েছে