হিজাব বা পর্দার সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বিশ্লেষণ এবং আমাদের দাবি

লেখক-মুহা. আল আমিন
শিক্ষার্থী, বশেমুরবিপ্রবি

২০১৩ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারী থেকে বিশ্ব হিজাব দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। নানা বাধা,প্রতিকূলতা ও বিতর্কের মোকাবিলায় বাংলাদেশী বাংশোদ্ভূত নিউইয়র্ক বাসিন্দা নাজমা খান প্রথম বিশ্ব হিজাব দিবস উদযাপনের ডাক দিয়ে বিশ্বের মুসলিম- অমুসলিম সকল নারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। যা বর্তমানে প্রতিবছর ১৯০টিরও বেশী দেশের মুসলিম-অমুসলিম নারীরা ঘটা করে পালন করছে।
ধারাপরিক্রমায় আজ পহেলা ফেব্রুয়ারি বিশ্ব হিজাব দিবসে হিজাব বা পর্দার বিশেষত্বকে সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক উপকারিতার আলোকে আপনাদের দৃষ্টি নিবন্ধ করতে চেষ্টা করব।
হিজাব কি বা কাকে বলে?
হিজাব এর আভিধানিক অর্থ হলো প্রতিহত করা, ফিরিয়ে আনা, আড়াল করা, আবৃত্ত করা, আচ্ছাদিত করা ইত্যাদি। ইসলামী শরীআতে পর্দা বা হিজাব সেই বিধিব্যবস্থাকে বলা হয় যার মাধ্যমে নিজ ঘর থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণহীন কথাবার্তা, দর্শন, দৃষ্টি বিনিময়, সৌন্দর্য প্রদর্শন ও লাগামহীন আচরণ থেকে বিরত থাকা যায়। পর্দা ইসলামের একটি মহা গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক অবদান, যা শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে নয়, বরং বিশ্ব মানবের জাতীয় সত্ত্বার রক্ষকও বটে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কোরআন শরীফে পর্দা করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: মুমিনদেরকে (পুরুষ) বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা রয়েছে। নিশ্চয় তারা যা করে, আল্লাহ তা অবহিত আছেন।
আর মুমিনা নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান-তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের ওড়না বক্ষদেশে দিয়ে রাখে (সুরা নুর:৩০:৩১)।
হাদিস শরীফে এসেছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন “স্ত্রীজাতির পর্দায় গুপ্ত থাকার সত্তা। কিন্তু যখনই তারা পর্দার বাহিরে আসে, তখন শয়তান তাদের দিকে ঝুঁকে।” (তিরমিযী)

অবরোধ প্রথা বা নারীকে চার দেয়ালের ভিতরে গৃহবন্দি করে রাখাকে আমরা অনেকেই পর্দা বা হিজাব মনে করি। প্রকৃতপক্ষে পর্দা প্রথা নারীকে শৃঙ্খলিত করার পরিবর্তে তাকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে, সমাজে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছে। ইসলাম শান্তি ও সার্বজনীন ধর্ম, ইসলামে নারীর হিজাব বা পর্দার বিধান এবং পুরুষের দৃষ্টি অবনত রাখার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য হল- সমাজ জীবনে কোনো ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধের স্থলন যেন না ঘটে। হিজাব বা পর্দার বিধান নিঃসন্দেহে নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক। এটি নারীর ব্যক্তি জীবনে, সমাজ ও রাষ্ট্রে স্বমহিমায় অবস্থান ও অগ্রগতির জন্য উপযুক্ত বিধান। নারী-পুরুষের মাঝে রয়েছে সৃজনিক ও প্রাকৃতিক ভিন্নতা। তা সত্ত্বেও প্রত্যেকে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে অনন্য। একজন নারী তার কর্মগুণে হতে পারেন পুরুষের চেয়েও অনেক বেশি মর্যাদাবান।
ইসলাম নারীকে অশিক্ষিত, অবরোধবাসিনী হতে বলেনি। হিজাব বা পর্দার বিধান পালন করে নারী নিরাপদে এগিয়ে যেতে পারে জ্ঞান-বিজ্ঞানে, শিক্ষাঙ্গনে, শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে।

হিজাব বা পর্দা শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনেই ক্ষান্ত নয়।এর রয়েছে সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক উপকারিতা।যা এতোমধ্যে করোনা ভাইরাস (কোভিড ১৯) আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে ব্যবহৃত মাস্ক ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে হিজাবকেই প্রতিনিধিত্ব করে।

হিজাবের সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক উপকারিতা আলোকপাত করলেই বুঝা যাবে বর্তমান সমাজ ব্যবস্হায় হিজাব পরিধানের অপরিহার্যতা।

সামাজিকভাবে হিজাব পুরুষ হয়রানির হাত থেকে রক্ষা, পবিত্রতার প্রতিনিধিত্ব,নারীর আন্ত প্রতিযোগিতা হ্রাস,বুদ্ধির বহিঃপ্রকাশে দৃষ্টি নিবন্ধ, নিজের প্রতি মূল্যায়ন,আত্ন- সন্মান বৃদ্ধি, আত্নমর্যাদাবোধ ও আত্নবিশ্বাসী হিসেবে নারীকে গড়ে তুলে।

এবার চলুন হিজাবের বৈজ্ঞানিক উপকারিতায় একটু চোখ রাখি

অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা : প্রসাধনী সামগ্রী রাসায়নিক উপাদানের সমষ্টি। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে জানা গেছে, অনেক প্রসাধনীর রাসায়নিক উপাদান অন্যান্য প্রাণীর কোষে ক্যান্সার সৃষ্টি করেছে। অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার মানব কোষের ওপর প্রভাব পরিলিক্ষিত হয়েছে।

আমাদের সমাজে অনেক নারীই হিজাব পরিধান না করে দৈনন্দিন অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করে নিজেকে উপস্থাপনের জন্য, তাদের অবশ্যই এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত।

সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাব থেকে রক্ষা : রসায়ন বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে শরীরের যে অংশ খোলা থাকে,সে অংশে‘মেলামিন’ নামক হরমোন বা প্রাণরস (যার কারণে মানুষ সাদা কিংবা কালো হয়) এর পরিমাণ বেড়ে যায়। কারণ ত্বকের নীচে অবস্থিত‘কোলেস্টরেল’নামক চর্বি যা সব ধরনের প্রাণিজ চর্বিতে কম-বেশি থাকে, তা সূর্যের বেগুনী রশ্মি দ্বারা ‘ভিটামিন ডি‘তে পরিণত হয়। ভিটামিন-ডি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলামিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই মেলামিনের কারণেই মানুষের শরীরের ত্বক
কালো ও ফর্সা হয়ে থাকে। ত্বকে মেলামিনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের রং কালো হয়ে যায় এবং লাবণ্য যায় কমে।

ক্যান্সারের ঝুকি থেকে রক্ষা : সূর্যের আলোতে বিদ্যমান বেগুনী রশ্নি প্রচন্ড গরমের সময় মেয়েদের নরম ত্বক ও দেহের জন্য ক্ষতিকর। চর্ম ক্যান্সারের পূর্ব রোগ হচ্ছে ‍Solar Keratosis. সূর্যের আলো সরাসরি গায়ে লাগলেই এই রোগ হয়। অথচ শরীয়তের নিয়মানুযায়ী পর্দা করার মাধ্যমে কাপড় দিয়ে ঢাকা থাকলে এ রশ্নিগুলো ত্বক ও দেহ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না।

বেপর্দা থাকার কারণে শরীরের অনাবৃত অংশে সূর্যরশ্নির প্রভাবে ত্বক ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। ইণ্ডিয়ান ক্যান্সার সোসাইটির জয়েন্ট সেক্রেটারী জ্যোৎনা গোভিল এ ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন, গ্রীষ্মে যারা খোলামেলা থাকে , তারা এ কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এটি শুধু অন্ত্রের প্রদাহই সৃষ্টি করে না, সঙ্গে ত্বক ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ায়।তাই এ প্রেক্ষিতে নারীদের হিজাব পরিধান করা অবশ্যম্ভাবী।

মস্তিষ্কের সতেজতা: স্বাস্থ্যকে সুন্দরভাবে রক্ষার জন্য মাথা ঢেকে রাখা একান্ত জরুরি। বিখ্যাত মস্তিষ্কের গবেষক ভি.জি.রোসিন লক্ষ্য করেছেন-১০৮ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রায় মস্তিষ্কেরর ফসফরাস গলতে শুরু করে। মাথা আবরণবিহীন অবস্থায় প্রচণ্ড সূর্যতাপের মধ্যে একটা বিশেষ সময় পর্যন্ত থাকলে যেকোনো সময় এ উচ্চ তাপমাত্রায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। ফলে মস্তিষ্কের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়। শুধু তাই নয় স্বরণশক্তি লোপ পেয়ে যাওয়ার ও ব্রেইনের কোনো কোনো অংশের কর্মপ্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। নেচার রোপাথ ও কিরোগ্রাক্টর বার্নার্ড জেসন বলেন, এটি ঘটার কারণ হচ্ছে, খনিজ ফসফরাসের ওপর ব্রেইনের ক্রিয়া-প্রক্রিয়া নির্ভর করে থাকে। ফসফরাস তাপের সংসর্গে অত্যন্ত সংবেদনাশীল হয়ে থাকে। সুতরাং অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এ কথাটি বলতে হয় যে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সমাজ কর্মে নিয়োজিত সকল কর্মীর উচিত তারা যেন মাথায় কোনো না কোনো ধরনের আবরণ ব্যবহার করেন।মেয়েদের জন্য হিজাব ও ছেলেদের জন্য টুপি,প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য ক্যাপ এর উত্তম সমাধান।

তাপমাএা ও শারীরিক ভারসাম্য রক্ষা : বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, বোরকা বা হিজাব নারীদের জন্য সবচেয়ে উত্তম পোশাক। মেডিক্যাল টেষ্টে দেখা যায়, একজন নারী তার দেহের স্বভাবিক তাপমাত্রায় শতকরা ৮০-৬০ ভাগ মাথার মাধ্যমে হারায়। অর্থাৎ-এ পরিমান তাপ মাথা দিয়ে বের হয়ে যায়। কাজেই সে যখন বোরকা পরিহিত থাকে তখন ওই তাপ শরীরে সঞ্চিত থাকে যা তাকে তার শারীরিক ভারসাম্য রক্ষা করে।

আবার শীতের দিনে এ তাপ ধারণের ফলে তাকে অন্যদের তুলনায় (যারা বোরকা পরেনি) ৫% কষ্ট কম পেতে হয়। মেডিক্যাল টেষ্টে দেখা যায়, মানুষের দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রার ভারসাম্য নষ্ট হলে দেহের ওপর ৪টি মৌলিক উপাদান যথা আগুন,পানি,বায়ু ও মাটির ব্যাপক মন্দ প্রভাব পরে যার ফলে নানা রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চুলকে উজ্জ্বল ও দূষন মুক্ত রাখতে:-
মাথা কে cover করে রাখলে চুলের দূষণ রোধ করা যাই। হিজাব চুলকে ধুলো এবং সূর্যের আলো থেকে সরাসরি রক্ষা করে যা চুলের ক্ষতি করতে পারে।

একটি রিপোর্টে দেখা গেছে যে মাথা থেকে চুল উঠে যাওয়ার ৩০% মাথায় ধুলোবালি জমার কারণে হয়। এবং আপনার চুলের গ্রোথ এর ক্ষেত্রে অনেকটা প্রভাব ফেলে।

এতক্ষণ আলোচিত ব্যাখ্যায় এটা প্রমাণিত যে, হিজাব পরিধানে রয়েছে বৈজ্ঞানিক যৌক্তিকতা ও উপকারিতা। আর তা শোভাও পেয়েছে বিভিন্ন বিশিষ্ট চিকিৎসাবিদ ও সংস্থার মুখে। তো শুনুন তাদের কথা-

অধ্যাপক কামাল মালাকার বলেন- সৌদি আরবের বেশিরভাগ নারীরাই পূর্ণ মুখঢাকা বোরকা পরিধানে অভ্যস্থ হওয়ায় তাদের মধ্যে ‘ইপস্টেইন বার ভাইরাস’- এ আক্রান্তের হার খুবই কম। এই ভাইরাস নাক ও গলায় ক্যান্সারের কারণ হিসেবে কাজ করে।

রিয়াদ থেকে রয়টার্স: বোরকা পরিধানে নারীদের নাক ও গলা স্বাভাবিকভাবেই ঢাকা থাকায় এ দু’টি স্পর্শকাতর স্থানে ভাইরাস আক্রমণে বাধাপ্রাপ্ত হয়। এর ফলে এসব স্থানে ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস পায়। একজন কানাডীয় চিকিৎসকের উদ্ধৃতি দিয়ে এ কথাগুলো বলা হয়।

অধ্যাপক মালাকারেরর উদ্ধতি দিয়ে সৌদি গেজেট জানায়, হিজাব (বোরকা) শ্বাস-প্রশ্বাসের নালীকে ক্ষত সৃষ্টির কবল থেকে রক্ষা করে। সৌদি আরবে বিশেষ করে নারীদের নাক ও গলায় ক্যান্সারের আক্রান্তের হার খুবই কম।

রিয়াদস্থ কিং আব্দুল আজিজ হাসপাতালের রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কামাল মালাকার জানান, এটি নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার ব্যাপার যে, কেবল একটি ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি বা প্রথা কীভাবে মানব জীবনের এত গভীরে প্রভাব ফেলতে পারে।

মিশিগানের তাহের মুনির বলেন, হেলথ সেন্টারের ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নারীরা যদি পায়ের গোড়ালির উপরে পোশাক তোলে তবে তাদের ভেতর মহিলাসুলভ হরমোন কমে যাবে বা বৃ্দ্ধি পাবে। এর ফলে তাদের ভ্যাজাইনাল ইনফ্লামেশন, কোমর ব্যথা, আঙ্গিক দুর্বলতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিবে।

সুতরাং পর্দার বিধান পালনে অভ্যস্ত নারীর নিজেদের লাজুকতা ও শালীনতা রক্ষার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিপদের ঝুঁকি কমায়। পর্দার বা হিজাব ইসলামের মৌলিক বিধানের অন্তর্ভুক্ত। পর্দার বিধান মেনে চলা মুসলিমদের প্রতি ইসলামের আদেশ। যতদিন পর্দার ব্যবস্থা করা হয় ততদিন শান্তি নিরাপত্তা এবং শালীন পরিবেশ বজায় থাকে। যে ঘর থেকে পর্দা উঠে যায় সে ঘর নির্লজ্জতা, বেহায়াপনা এবং অশান্তি আকড়ে ধরে। এ কথা বললে অতিরিক্ত হবে না যে, পাশ্চাত্য সভ্যতা ও তাদের নারী মুক্তি আন্দোলন-নারী- পুরুষের অবাধ মেলামেশার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়ে পুরুষদেরকে লম্পট ও নারীদেরকে পতিতার পর্যায় নামিয়ে দিয়েছে। আজকের পশ্চিমা সমাজ হারে হারে টের পাচ্ছে তাদের চলাফেরায় অবাধ মেলামেশা ও নগ্নতার কুফল, এবং তা যে কী করে সমাজের ও মানুষের ব্যক্তি জীবনে কাল হয়ে আনছে।

সিসিলির বিখ্যাত মনস্তত্ত্ববিদ স্টিফিন ক্লার্ক তার গবেষণায় লিখেছেন, অবাধ মেলামেশায় নারীদের আমি পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট হতে দেখেছি। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, ব্যভিচার অশ্লীলতা বেড়ে যায়। বহু সাজানো সংসার আমি ভেঙ্গে যেতে দেখেছি, বহু আত্নহত্যার ঘটনা ঘটতে দেখেছে, নারী-পুরুষকে জেলে যেতে দেখেছি। এসব ঘটনার মূল কারণ নারী-পুরুষদের অবাধ মেলামেশা অবাধে একে অন্যের ঘরে যাওয়া আসা।

পল রবিন (Paul Robbin) লিখেছেন, বিগত পঁচিশ বছরে আমরা এতখানি সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি যে, অবৈধ সন্তানকে আমরা প্রায় বৈধ সন্তানের পর্যায়ে এনে ফেলেছি। এখন এতটুকু করার আছে যাতে এখন হতে শুধু অবৈধ সন্তান জন্ম লাভকরতে পারে।

উল্লেখিত আলোচনার জরিপে বলতে হয়, নারীদের বিশেষ করে বাইরে বের হওয়ার জন্য তাদের বোরকা বা হিজাবই হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম পোশাক।

এতোসব যুক্তিকতা,সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক উপকারিতা সত্য আমাদের দেশে কেন জানি হিজাবকে অবজ্ঞা ও তাচ্ছিল্যের সাথে মিডিয়া,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপস্হাপন করা হয়।

তাই আজ বিশ্ব হিজাব দিবস উপলক্ষে কিছু দাবি পেশ করছি।
১. শিক্ষা, চাকুরী,কর্মপেশায় নারীর হিজাব পরার শর্তহীন অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
২.ড্রেসকোডের নামে বিদ্যালয়ে হিজাবের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।

৩.সকল ধরনের পরীক্ষায় হিজাব পরিহিতাদের হেনস্তা করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৪.বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও দেশের সকল প্রতিষ্ঠানের ড্রেসকডে হিজাবকেও যুক্ত করতে হবে।
৫.হিজাব পরিহিতাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন ও হয়রানি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
৬.হিজাব পরিধান করার কারনে নারীর সাথে বৈষম্যমূলক আচরন ও ব্যক্তস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ কে অপরাধ হিসেবে গন্য করে শাস্তিমূলক আইন পাশ করতে হবে।
৭.ক্লাস প্রেজেন্টেশন ও ভাইবায় হিজাবকে ফরমাল পোষাক হিসেবে গন্য করতে হবে।

মুহা. আল আমিন
তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক
আল বিরুনী বিজ্ঞান ক্লাব
শিক্ষার্থী বশেমুরবিপ্রবি,গোপালগঞ্জ 

আরো পড়ুন পোস্ট করেছেন

Comments

লোড হচ্ছে...
শেয়ার হয়েছে