ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয় বরং সন্ত্রাসী রাজনীতি বন্ধ করতে হবে : মুফতী ফয়জুল করীম

0
339

ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয় বরং সন্ত্রাসী রাজনীতি বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন মুফতি ফয়জুল করীম। আজ ২১ অক্টোবর’১৯ ইং সোমবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ফটো জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশনে বিস্তৃত চিন্তার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ ‘চিন্তাঙ্গন’ এর উদ্যোগে “দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষায় ছাত্রসমাজের ভূমিকা: শহীদ আবরার থেকে আমাদের শিক্ষা” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তেব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ দেশের জন্য শহীদ হয়েছে। আজকের ছাত্র সমাজকেও সর্বদা এ দেশ ও মাটির জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে। যদি দেশে আদর্শিক ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হয় তাহলে দেশের জন্য তা ক্ষতি বয়ে আনবে।’

চিন্তাঙ্গন পরিচালক মুহাম্মাদ আব্দুল জলিল-এর সভাপতিত্বে ও ঢাবি চিন্তাঙ্গন সমন্বয়ক শরিফুল ইসলাম রিয়াদের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাইমুল আহসান খান বলেন, ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করুন।

তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামীলীগ এখন নিজেদের নিয়েই শঙ্কিত; বিধায় তারা এখন সবার মধ্যেই অনুপ্রবেশকারী খুঁজছে। মেননরা কালো টাকার ভাগ না পেয়ে নিজেদের দুর্নীতির কালো খতিয়ান প্রকাশ করে দিচ্ছে।’ তিনি ক্যাম্পাসগুলোতে র‌্যাগিংয়ের সমালোচনা করতে গিয়ে বলেন, আমি ঢাবির শিক্ষক হয়েও বিগত ২০ বছর যাবৎ র‌্যাগিংয়ের শিকার হচ্ছি। সাম্প্রতিক সময়ে যথেচ্ছা গুলির অর্ডার বিষয়ে তিনি বলেন, যারা বছর বছর ধরে ক্যাম্পাসে র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়, তারা পরবর্তীতে চাকুরীপ্রাপ্ত হয়ে কোনো ধরনের মায়া-মমতা তার আর অবশিষ্ট থাকেনা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন। তিনি বলেন, আজ শিক্ষার নামে কুশিক্ষা চলছে। যার ফলে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠেও শিক্ষারর্থীদের মাঝে কোন নৈতিকতা নেই; এভাবে চলতে দেয়া যায় না। দেশকে সুখী-সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রয়োজন আদর্শিক ছাত্র রাজনীতির চর্চা।

বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক প্রাক্তন বুয়েটিয়ান, জনাব গৌতম দাস বলেন, ‘এতদিন পরে এসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের প্রশ্ন আসার কথা নয়।’ তিনি ঢাবিতে ধর্মভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে বলেন, কোন প্রশ্নে একটি সংগঠনকে ধর্মভিত্তিক সংগঠন বলা হবে? তা আগে নির্ধারণ করুন, তারপর এসব কথা বলার দুঃসাহস করুন।

সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন চিন্তাঙ্গনের প্রধান উপদেষ্টা শেখ ফজলুল করীম মারুফ, মাসিক নকীবের সাবেক সম্পাদক এম. হাছিবুল ইসলাম, চিন্তাঙ্গনের সাবেক পরিচালক নূরুল করীম আকরাম, শেখ মুহাম্মাদ আল আমিন, চিন্তাঙ্গনের অন্যতম সদস্য একেএম আব্দুজ্জাহের আরেফী, কে এম শরীয়াতুল্লাহ, ইউসুফ আহমাদ মানসুর, গাজী মুহাম্মাদ উসমান গনী, এম.এম. শোয়াইব, সাইফ মুহাম্মাদ সালমান, এম.এ হাসিব গোলদার, মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম, মুহাম্মাদ ইবরাহীম হুসাইন প্রমুখ। /আরবিএম