৬৪ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রীই শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান করে না

0
59

আমাদের সমাজে শিক্ষকের সম্মানের এমন অজস্র দৃষ্টান্ত রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে ছাত্রশিক্ষকের এমন শ্রদ্ধাপূর্ণ সম্পর্কে চিড় ধরতেও দেখা যাচ্ছে। শিক্ষকের ‘অতিশাসনে’ ছাত্র-ছাত্রী স্কুল ছাড়ছে, কখনো কখনো আত্মহত্যাও করছে। আবার শিক্ষকরাও লাঞ্ছিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীদের হাতে। শিক্ষককে দেখার পর শ্রদ্ধা জানাতে এগিয়ে না এসে বরং এড়িয়ে কিংবা ভয় পেয়ে পালিয়ে যায় শিক্ষার্থীরা। সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা কারণে অপদস্থ হচ্ছেন শিক্ষকরা; হারাচ্ছেন সম্মান।

এমন তথ্যই উঠে এসেছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইকোনোমিক্স এন্ড সোসাল রিসার্চ এবং ভারকি ফাউন্ডেশনের ‘গ্লোবাল টিসার্চ স্ট্যাটাস ইনডেক্সে-২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয় বিশ্বে গড়ে মাত্র ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষাগুরুদের সম্মান করে। এছাড়া শিক্ষকতা পেশাও সামাজিক অবস্থান ও মর্যাদা হারাচ্ছে অনেক উন্নত দেশে। যদিও ওই জরিপে বাংলাদেশকে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।

মানুষের অন্যতম প্রাথমিক চাহিদা শিক্ষা। মানসিক বিকাশের জন্য শিক্ষার কোনও অবকাশ নেই। আর তাই মানবসভ্যতার জন্মলগ্ন থেকেই শিক্ষকতা একটি গুরুত্ববহ ও সম্মানজনক একটি পেশা। জরিপে বলা হয়, সারা বিশ্বের মধ্যে এখনও এশিয়ার দেশগুলোতে শিক্ষকতা পেশা সামাজিক অবস্থান ও মর্যাদার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে। চীনে শিক্ষকতা সবচেয়ে বেশি মর্যাদার। জরিপ অনুসারে এর পরেই অবস্থান রয়েছে মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, ভারত, নিউজিল্যান্ড এবং সিঙ্গাপুর। গবেষণা পরিচালনাকরী সংস্থাগুলো বিশ্বের ৩৫ দেশের ওপর জরিপ চালিয়ে এই র‌্যাংকিং তৈরি করে। যেখানে সারা বিশ্বে গড়ে ৩৬ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী তাদের শিক্ষককে সম্মান করে, সেখানে চীনের ৮১ শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষকদের সম্মান করেন।

আন্তর্জাতিক এই গবেষণায় বলা হয়, শিক্ষকরা উচ্চ মর্যাদায় ভূষিত হতে চাইলে তাদের উচিত চীন, মালয়েশিয়া, তাইওয়ানের ক্লাস রুমগুলোতে কাজ করা, কারণ এদেশগুলোরে শিক্ষকতা পেশা সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ। তবে এ পেশার জন্য ব্রাজিল, ইসরায়েল এবং ইতালি মোটেও উপযোগী নয়। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং জার্মানির চেয়ে যুক্তরাজ্যের শিক্ষকদের মর্যাদা কিছুটা ভাল। এ দেশগুলোর অবস্থান র‌্যাংকিংয়ে মাঝামাঝি।

শিক্ষকদের সম্মান জানানোর এই সংস্কৃতি পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে এশিয়ার দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি। এসব দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাতেও ভাল অবস্থান অর্জনের নজির স্থাপন করছেন।

ভারকি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সানি ভারকি জানান, সমাজে শিক্ষকের অবস্থান ও মর্যাদা এবং স্কুলে সন্তানদের লেখাপড়ার অগ্রগতির মধ্যে একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, যেটা এই গবেষণায় দেখা গেছে । তাই শিক্ষকদের সম্মান করা শুধু একটি নৈতিক দায়িত্বই নয়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষকতা পেশার অবস্থান মূল্যায়নে জরিপে আরো একটি বিষয়ে নজর দেন গবেষকরা। সন্তানদেরকে এই পেশায় দেখতে চান কিনা এমন প্রশ্ন করা হয় তাদের পিতা-মাতাকে। এমন প্রশ্নের উত্তরে দেখা যায়, চীন, ভারত ও ঘানার অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানের জন্য শিক্ষকতা পেশায় দেখতে চান। সন্তানকে এই পেশায় দেশতে চায় এমন দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের অবস্থান নবম। এই দেশের ২৩ শতাংশ বাবা-মা চান তাদের সন্তান বড় হয়ে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিক। অন্যদিকে রাশিয়া, ইসরায়েল ও জাপানের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের শিক্ষকতা পেশা বেছে নিতে নিরুৎসাহিত করেন।/এমএমআর