আল-কুরআনে আল্লাহর পরিচয়; -ইউসুফ আহমাদ মানসুর

0
2
রহমান রহিম আল্লাহর নামে। যিনি মানবজাতিকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব দান করে সম্মানিত করছেন এবং মানুষের সামনে নিজের পরিচয় নিজেই উপস্থাপন করেছেন- যে পরিচয়ের পর্দা উম্মোচন করা মানুষের পক্ষে নিতান্তই অসাধ্য ছিল। সালাত-সালাম সেই পবিত্র ও শ্রেষ্ঠ মহামানবের উপর যিনি নিজ জীবনের উপর অবর্ণনীয় অত্যাচার অনুভবেও মহান রাব্বে কারীমের পরিচয় আমাদের সামনে বর্ণনা করেছেন। জীবনে সব ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা সেই সকল মহানুভব মানুষের প্রতি যারা কল্পনাতীত যন্ত্রণা সহ্য করেও কালামে এলাহী এবং ক্বাওলে রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহী ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পূর্ণাঙ্গ জীবনাদর্শ আমাদের সম্মুখে তুলে ধরেছেন।

সূরা ইখলাস ও আল্লাহর পরিচয় :
১. বলো, আল্লাহ (সবদিক থেকে) এক।
২. আল্লাহ এমন যে সকলে তাঁর মুখাপেক্ষী, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন।
৩. তাঁর কোন সন্তান নেই এবং তিনি কারো সন্তান নন।
৪. এবং তাঁর সমকক্ষ নয় কেউ।

সূরা ইখলাস নাযিলের প্রেক্ষাপট
একদল কাফির মহানবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রশ্ন করেছিলেন, আপনি যে মা’বুদের ইবাদত করেন তিনি কেমন? তাঁর নাম, বংশ পরিচয় কী? তাঁর পরিচয়ের বিবরণ দিন।
জবাবে সূরা ইখলাস নাযিল হয়। অন্য বর্ণনায় পাওয়া যায়, মদীনার ইয়াহুদীরা এ প্রশ্ন করেছিল।
আরেক বর্ণনায় আছে, মুশরিকরা রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আরো প্রশ্ন করেছিল আল্লাহ পাক কিসের তৈরী? সোনা-রূপার না অন্য কিছুর? এর জবাবে সূরাটি অবতীর্ণ হয়।

যেহেতু আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে কাফির মুশরিকদের প্রশ্নের জবাবে সূরা ইখলাস নাযিল হয়েছে তাই কুরআন ব্যাখ্যাকারগণের মতে এ সূরাটি মহান আল্লাহ তায়ালার পরিচয় প্রধানের ক্ষেত্রে প্রধানতম একটি অধ্যায় আর রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন এ সূরাটি কুরআনুল কারীমের এক তৃতীয়াংশ।

আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় তাঁর কোনো শরীক নেই
‘বলো’ দ্বারা রাসূল সা. এর রিসলাতের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। এতে রাসূল সা. কে আল্লাহ তা‘আলা প্রকৃত পরিচয় ও তাঁর আদেশ নিষেধ মানব সম্প্রদায়কে অবহিত করণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
আল্লাহ সবদিক থেকে এক। এর উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর সত্তা এক। তাঁর কোন অংশ নেই, খ- নেই । তাঁর গুণাবলী এমন যে, তা আর কারো মধ্যে পাওয়া যায় না। এভাবে আল্লাহ নিজ সত্তার দিক থেকে এবং গুণাবলীর দিক থেকেও এক। ‘আহাদ’ শব্দের এ অর্থও হয় যে, তিনি কোন এক বা একাধিক উপাদান দ্বারা তৈরী নন, তাঁর মধ্যে একাধিক্যের কোনও সম্ভাবনা নেই এবং তিনি কারও তুল্যও নন। তিনি ছাড়া অন্য কোনো কিছু তাঁর সাথে নেই এবং এটাও সত্য যে, তাঁর মতো অন্য কিছুই নেই।
অস্তিত্বে আল্লাহ তা’আলা একা, তার অস্তিত্বের একতা ছাড়া আর কিছুই সত্য নয়। তার অস্তিত্ব ছাড়া অন্য কিছুরই কোন অস্তিত্ব নেই। তিনি ছাড়া অন্য যা কিছু আছে, তা তারই দান। তার ইচ্ছা থেকেই সকলে সাহায্য গ্রহণ করে এবং নিেিজদের অস্তিত্বের ধারণাও তার মূল অস্তিত্ব থেকেই গ্রহণ করে। এটা হলো মুশরিকদের সেই প্রশ্নের জবার; যাতে তারা বলেছিল, আল্লাহ তা‘আলা কিসের তৈরী?

সকলেই আল্লাহর মুখাপেক্ষী, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন
“সকলে তাঁর মুখাপেক্ষী; তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন।” এটি ‘আস-সামাদ’ -এর মর্ম।
আরবীতে আস-সামাদ বলা হয় তাকে, মানুষ নিজের সমস্যার সমাধানে ও বিপদে সাহায্যের প্রয়োজনে যার সরণাপন্ন হয় এবং জগতের সকল কিছু যার মুখাপেক্ষী থাকে- তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন। তাঁর কখনো কোন প্রয়োজনে কারও মুখাপেক্ষী হতে হয় না। তাঁর কোন প্রয়োজনও নেই।

আল্লাহকে কেউ জন্ম দেয়নি এবং তিনি কাউকে জন্মও দেননি
“তাঁর কোন সন্তান নেই এবং তিনিও কারও সন্তান নন।” যারা আল্লাহর বংশ পরিচয় সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল- এটা তাদের জবাব। একটি শ্রেণি ফিরিশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা বলত। আরেকদল হয়রত ঈসা আ. কে বা হযরত উযায়ের আ. কে আল্লাহর পুত্র বলত। সন্তান প্রজনন সৃষ্টির বৈশিষ্ট স্রস্টার নয়।

তার সমকক্ষও কেউ নয়
“এবং তাঁর সমকক্ষ নয় কেউ” অর্থাৎ এমন কেউ নেই, যে সত্তা ও গুনের দিক বিবেচনায় তাঁর সমকক্ষতা দাবি করতে পারে। সূরা ইখলাসের এ চার আয়াত দ্বারা আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদী পরিচয়কে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ভাষায় পূর্নাঙ্গরূপে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথম আয়াত দ্বারা বহু ইশ্বরবাদী তথা যারা একের বেশি মা’বুদ বিশ্বাস করে তাদের ধারণাকে ‘না’ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় আয়াতে তাদের ধ্যান-ধারণা খন্ডন করা হয়েছে, যারা আল্লাহ তায়ালাকে এক জানা সত্ত্বেও অন্য কাউকে বিপদাপদ থেকে উদ্বারকারী, প্রয়োজন পূরণকারী, সমস্যার সমাধানকারী, মনের আশা পুরণকারী ইত্যাদি বলে বিশ্বাস করে। তৃতীয় আয়াতে তাদের কথার জবাব দেয়া হয়েছে, যারা বিশ্বাস করে আল্লাহর সন্তান-সন্ততি আছে। চতুর্থ আয়াতে সেই সব লোকের বিশ্বাসকে অস্বীকার করা হয়েছে, যারা মনে করে আল্লাহ তায়ালার কোন গুণ একই সাথে অন্য কারও মধ্যে থাকতে পারে। যেমন মাজুসী সম্প্রদায় বলত, আলোর স্রষ্টা একজন অন্ধকারের স্রষ্টা আরেকজন। মঙ্গল এক খোদা সৃষ্টি করে অমঙ্গল অন্য খোদা সৃষ্টি করে।

আল-কুরআনের অন্যান্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালার পরিচয় (আয়াতের মর্মার্থ)
আল্লাহ আমাদের খালিক; সূরা আন‘আম-১০২, সূরা রা‘দ-১৬।
তিনিই আমাদের সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন; সূরা হাশর-২৪।
তিনি আমাদের লালন-পালন করেন; সূরা মায়েদা-৮৫।
তিনি আমাদের রিযিকদাতা; সূরা যারিয়াত-৫৮।
বিপদে একমাত্র সাহায্যেকারী তিনিই; সূরা নিসা-৪৫।
তিনি আমাদের স্রষ্টা ও একমাত্র মালিক; সূরা আলে ইমরান-২৬।
তিনিই অসুস্থতা দান করেন আবার তিনিই সুস্থ্যতা দেন; সূরা শু‘আরা-৮০।
তিনি দয়া করে মানবজাতির গাইডলাইন হিসেবে কোরআন অবতীর্ণ করেছেন; সূরা বাকারা-০২।
নিজের পরিচয় মানবজাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন; সূরা এখলাস-১, ২, ৩ ও ৪।
তিনি তাঁর আদেশ-নিষেধসমূহ কোরআনে পাকে বর্ণনা করেছেন; সূরা নজম-৪ ও ১০।
মহাবিশ্ব আল্লাহর সাম্রাজ্য; সূরা হাদীদ। এই সাম্রাজ্যের মালিকানায় ও পরিচালনায় তাঁর কোন অংশীদার নেই। বিশ্ব ও মহাবিশ্বের সর্বত্র তাঁর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত; সূরা হাদীদ-৩, ৪ ও ৫।
আল্লাহ সার্বভৌম সত্তা। আদেশ-নিষেধের সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত ক্ষমতা একমাত্র তাঁর। আল্লাহর বিধানই চূড়ান্ত আইন; সূরা মুলক-১ ও ২।
আল্লাহ তা’য়ালা মাটি থেকে মানুষ এবং আগুন থেকে জিন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন; সূরা রাহমান-১৪ ও ১৫।
আল্লাহ মানুষ এবং জিন জাতিকে আনুগত্য করার কিংবা অবাধ্যতা করার সুযোগ প্রদান করেছেন; সূরা কাহাফ-২৯।
আল্লাহ জিন ও মানুষদেরকে তাঁর আনুগত্য করার পুরস্কার ও অবাধ্যতা করার শাস্তি সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছেন; সূরা বাকারা-৩৮ ও ৩৯, সূরা নিসা-৪৮, সূরা তাগাবুন-১০।
আল্লাহ মানুষকে তাঁর ইবাদাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন; সূরা যারিয়াত-৫৬।
আল্লাহ একমাত্র মানুষকেই তাঁর খলীফা বা প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে “আল-খিলাফাহ আলা মিনহাজিন নবুওয়াহ” কায়েম করে পূর্নাঙ্গ ইবাদতের অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টির দায়িত্ব দিয়েছেন; সূরা বাকারা-৩০।
আল্লাহর দেয়া জীবন বিধান ইসলাম; সূরা আলে ইমরান-১৯, সূরা মায়েদা-০৩।
আল্লাহর দেয়া জীবন বিধান নির্ভুল, পূর্ণাঙ্গ, ভারসাম্যপূর্ন ও কল্যাণময়। আল্লাহ ছাড়া আর কারো পক্ষে এমন জীবন বিধান রচনা করা সম্ভব নয়। আল্লাহ মানুষকে খলীফার (প্রতিনিধির) মর্যাদা দেয়ায় হিংসাকাতর ইবলিস ও তার অনুসারীরা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা চালাবার শপথ নেয়; সূরা বাকারা-৩৪ ও ৩৬।
আল্লাহ ঘোষণা করেন যে, যারা একনিষ্টভাবে আল্লাহর আনুগত্য করে চলে ইবলীস ও তার অনুসারীরা তাদের ওপর প্রধান্য প্রতিষ্ঠা করতে পারবেনা; সূরা বাকারা-৩৮ ও ৩৯।
আল্লাহ অলৌকিকভাবে কোন ভূখ-ে তাঁর দেয়া জীবনবিধান চালু করেন না; সূরা বানকাবূত-০৬।
আল্লাহ জোর করে তাঁর জীবন বিধান কোন জনগোষ্ঠীর উপর চাপিয়ে দেন না। আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না; যদি তারা তাদের (চিন্তাধারা ও কর্মধারা নির্ধারণের মাধ্যমে) নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন না করে; সূরা আনফাল-৫৩।
আল্লাহ চান, মানুষ স্বেচ্ছায় তাঁর দেয়া জীবন তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন ও আন্তর্জাতিক জীবন কায়েম করুক। যেই জনপদবাসী স্বেচ্ছায় আল্লাহর দেয়া জীবন বিধানের নিরীখে তাদের গোটা সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলে, আল্লাহ তাদের জন্য আসমান ও যমীনের বারাকাত দান করেন। আল্লাহ তাদেরকে কল্যাণ, উন্নতি ও সমৃদ্ধি দান করেন; সূরা বানকাবূত-০৭।
আল্লাহ তাঁর অনুগত বান্দাগনের উত্তম রিযিক দান করেন; সূরা নূহ-১০, ১১ ও ১২, সূরা তালাক-০৩।
আল্লাহ তাঁর নাফরমান বান্দাদের পেরেশানী-যুক্ত জীবিকা দেন; সূরা যারিয়াত-৫৯ ও ৬০।
আল্লাহ মানুষকে ইচ্ছা ও কর্ম প্রচেষ্টায় স্বাধীনতা দিয়ে পরীক্ষার সম্মুখীন করেছেন; সূরা তাগাবুন-০২ ও ০৪।

আল্লাহ নির্দেশ দান করেছেন
আল্লাহই একমাত্র আইনদাতা; সূরা আন‘আম-৫৭।
আল্লাহ নির্দেশ দান করেছেন পৃথিবীতে তাঁর শাসন কায়েম করার; সূরা হাশর-০৭।
শুরা বা পরামর্শ ভিত্তিক শাসন কর্তৃক প্রতিষ্ঠার; সূরা আলে ইমরান-১৫৯, সূরা শুরা-৩৮।
যে কোনো মূল্যে সুবিচার নিশ্চিত করার; সূরা আ‘রাফ-২৯, সূরা শুরা-১৫।
ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের প্রতিরোধ করার; সূরা হজ্জ-৪১।
অর্থ-সম্পদের সুষম বন্টন ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য সুদমুক্ত ও যাকাতভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থা গড়ে তোলার; সূরা বাকারা-১১০ ও ২৭৫।
আল্লাহর পথে অকাতরে অর্থ-সম্পদ ব্যয় করার; সূরা বাকারা-২৬১ ও ২৬২।
তাঁর উপর ভরসা রাখার; সূরা তালাক-০২ ও ০৩।

আল্লাহ নিষেধ করেছেন
আল্লাহ নিষেধ করেছেন আইনের দাবি ব্যতিত কাউকে হত্যা করার; সূরা নিসা-৯৩, সূরা মায়েদা-৩২।
অন্যের অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করার; সূরা নিসা-০২ ও ১০।
আমানতের খেয়ানত করার; সূরা আলে ইমরান-১৬১, সূরা আনফাল-৫৮।
মাপা ওজনে কম দেয়ার; সূরা রাহমান-০৭, ০৮ ও ০৯।
সুদ, ঘুষ, মজুদদারী ও জুয়ার; সূরা বাকারা-১৮৮, সূরা মায়েদা-৯০ ও ৯১।
অপব্যয়-অপচয় করার। যুলুম-অত্যাচারের; সূরা শুরা-৪২ ও ২২৭।
রিয়া, গীবত, অপবাদ ও অহংকার; সূরা নিসা-১৪২, সূরা নাহাল-২৩, সূরা মুমিন-২৭।
মিথ্যা বলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার; সূরা যারিয়াত-১০, সূরা ফুরকান-৭২, সূরা হজ্জ-৩০।
গান-বাজনা শ্রবণ ও সকল প্রকার (প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য) অশ্লীল কাজ করার; সূরা বানী ইসরাঈল-৩২।

আল্লাহ চিরঞ্জীব এবং সমগ্র সৃষ্টির নিয়ন্ত্রনকারী
আল্লাহ তিনি, যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। যিনি চিরঞ্জীব, সমগ্র সৃষ্টির নিয়ন্ত্রক, যাঁর কখনও তন্দ্রা পায় না এবং নিদ্রাও নয়। আকাশম-লে যা কিছু আছে (তাও) এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে (তাও) সব তারই। কে আছে এমন, যে তাঁর সমীপে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করবে? তিনি সকল বান্দার পূর্বাপর সকল অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত। তারা তাঁর গুণের কোন বিষয় নিজ আয়ত্তে নিতে পারে না। কেবল সেই বিষয় ছাড়া যা তিনি নিজে ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসী আকাশ ম-ল ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। আর এ দু’টোর তত্ত্বাবধানে তাঁর বিন্দুমাত্র কষ্ট হয় না। এবং তিনি অতি উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন ও মহিমাময়। সূলা বাকারা-২৫৫, সূরা আলে ইমরান-০২, সূরা ফুরকান-৫৮, সূরা মুমিন-৬৫।

আল্লাহ সর্বস্রষ্টা এবং সর্বশ্রোতা
বলো, আল্লাহই ভালো জানেন, তারা কতকাল (ঘুমিয়ে) ছিল। আকাশম-লী ও পৃথিবীর মাথায় গুপ্ত জ্ঞান তাঁরই আছে। তিনি কত উত্তম দ্রষ্টা। কত উত্তম শ্রোতা। তিনি ব্যতীত তাদের আর কোন অভিভাবক নেই। তিনি নিজ কর্তৃত্বে কাউকে শরীক করেন না। সূরা কাহাফ-২৬
ইমাম জারীর তাবারী রহ. এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, আল্লাহ তায়ালা সকল সৃষ্টিজীবকে সবসময় সমানভাবে দেখেন এবং তাদের সকল কথা শুনেন। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপন থাকে না। আল্লামা জারি রহ. বলেন, সমস্ত সৃষ্টিকূল যেখানেই থাকুক না কেন আল্লাহ পাক তাদের দেখেন এবং তাদের সর্ব প্রকার কথা শ্রবন করেন। তাঁর দেখা ও শোনার বাহিরে কোন কিছুই নেই।
সূরা হাশর-২২, সূরা শূরা-১১, সূরা নিসা-৫৮, সূরা হাজ্জ-৬১,সূরা কাহাফ-২৬, সূরা শুআরা-১৫, সূরা তালাক-১৪।

রিযিকদাতা আল্লাহ, এবাদতের একমাত্র উপযুক্ত আল্লাহই
“এবং আমি ইব্রাহীমকে পাঠালাম, যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, আল্লাহর ইবাদত কর ও তাঁকে ভয় কর। এটাই তোমাদের পক্ষে উত্তম, যদি তোমরা সমঝদারির পরিচয় দাও। তোমরা যা কর তা তো কেবল এই যে, মূর্তি পূজা কর আর মিথ্যা রচনা কর। নিশ্চিত জেনো, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদত কর তারা তোমাদেরকে রিযিক দেয়ার ক্ষমতা রাখেনা। সুতরাং আল্লাহর কাছে রিযিক সন্ধান কর, তাঁর ইবাদত কর এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় কর। তারই কাছে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে; সূরা যারিয়াত-৫৮, সূরা বাকারা-২১২, সূরা আল-মায়েদা-৮৮, সূরা হুদ-৬, সূরা রাদ-২৬, সূরা হাজ্জ-৫৮

আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করে তাকে কুরআন ও কথা বলা শিক্ষা দিয়েছেন
তিনিই তো রহমান, যিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাকে ভাব প্রকাশ করতে শিখিয়েছেন। সূরা আর-রহমান ১-৪

প্রভুত্ব ও সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র আল্লাহ
আল্লাহ তায়ালা তাঁর উলুহিয়্যাত বা প্রভূত্ব সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে কম-বেশি ১৪৪ বার উল্লেখ করেছেন। তিনি ছাড়া আর কেউ প্রভূত্ব দাবীর যথার্থতা রাখতে পারে না। “তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি বাদশাহ, পবিত্রতার অধিকারী, শান্তিদাতা, নিরাপত্তা দাতা সকলের রক্ষক, মহা ক্ষমতাবান, সকল দোষ-ত্রুটি হতে সংশোধনকারী, গৌরবান্বিত। তারা যে শিরক করে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র। তিনি আল্লাহ, যিনি সৃষ্টিকর্তা, অস্তিত্বদাতা, রূপদাতা, সর্বাপেক্ষ সুন্দর নামসমূহ তাঁরই, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, তা তাঁর তাসবীহ পাঠ করে এবং তিনিই ক্ষমতাবান, হেকমতের মালিক।” সূরা হাশর-২৩ ও ২৪, সূরা ত্বহা-১১৪, সূরা মুমিনুন-১১৬, সূরা মুলক-০১ ও ০২।

আল্লাহ মুমিনদের অভিভাক এবং তিনি তাদের সঠিক পথ দেখান
আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক। তিনি তাদেরকে অন্ধাকার থেকে বের করে আলোতে নিয়ে আসেন। আর যারা কূপথ অবলম্ভন করেছে তাদের অভিভাবক শয়তান। যে তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারে নিয়ে যায়। তারা সকলে অগ্নিবাসী। তারা সর্বদা সেখানেই থাকবে।
সূরা বাকারা-২৫৭, সূরা আলে ইমরান-৬৮, সূরা আ’রাফ-১৯৬, সূরা হুদ-১১৩, সূরা মুহাম্মদ-১১

আল্লাহ উত্তম বিধানদাতা এবং ন্যায় পরায়ন বিচারক
যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম-তন্ত্র-মন্ত্র মতবাদ গ্রহণ করবে তার কিছুই আল্লাহর নিকট গ্রহনযোগ্য হবে না। পরকালে সে হবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ; সূরা বাকারা-১৩০।
তিনিই (আল্লাহ) কি সকল বিচারকের বিচারক নন? সূরা ত্বীন-০৮।
আল্লাহ তা‘আলা যেমন পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল; ঠিক তেমনি তিনি আবার একজন ন্যায়বিচারকও। তিনি কারও সাথে বিন্দু পরিমানও অন্যায় হতে দেন না। তিনি আমাদের সবাইকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি, বিধি-বিধান তৈরি করে দিয়েছেন। যারা আল্লাহর দেওয়া বিধান মতো জীবন যাপন করে, তাদের তিনি পুরস্কার হিসেবে জান্নাত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আর যারা তাঁর বিধান অমান্য করে ভোগ-বিলাসে মেতে উঠে, সকল অন্যায় কাজ করে, তাদেরকে জাহান্নামে দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি প্রত্যেককে তার কর্মফল যথাযথ দান করেন। তিনি কারো উপর জুলম করেন না।
সূরা মায়েদা-০৩ ও ৫০, সূরা আন‘আম-৫৭, সূরা হাশর-০৭।

আল্লাহ তা’য়ালা মৃত্যুদানের মালিক
আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যুর ফায়সালা করে রেখেছি এবং এমন কেউ নেই, যে আমাকে অক্ষম সাব্যস্ত করেতে পারে; সূরা ওয়াক্বিয়াহ-৬০।
মৃত্যু সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে মোট ১০৮ টি আয়াতে ১১৮ বার বলেছেন। মহান আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য তাঁর পরিচয়ের পথ উম্মুক্ত করেছেন বিস্তৃতভাতে। তিনি পবিত্র কুরআনের পাতায় পাতায় নিজ পরিচয় সুস্পষ্ঠভাবে প্রকাশ করেছেন। যেন বান্দাহ তাঁর মা’বুদ তথা আল্লাহ তা’য়ালার পরিচয় নিয়ে মূহুর্তের জন্যও বিভ্রান্ত না হয়।
সূরা আলে ইমরান-১৫৮, সূরা আ‘রাফ-১২৫, সূরা ক্বাফ-১৯ ও ৪৩, সূরা হিজর-২৩, সূরা শু‘আরা-৮১, সূরা যুমার-৩০, সূরা আনকাবুত-৫৭, সূরা হাদীদ-০২, সূরা মুনাফিক-১১।