ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড ও একটি প্রস্তাবনা; শরিফুল ইসলাম রিয়াদ

0
18

একটি দেশের জনসংখ্যা সম্পদ না বিপদ, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের তর্ক বহুদূর গড়িয়েছে। ম্যালথাস জনসংখ্যা বৃদ্ধির মধ্যে বিপদই দেখতে পেয়েছেন। তবে তিনি পযুক্তিগত উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নেননি। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ফলে ম্যালথাসের সময়ের চেয়ে অনেক গুণ জনসংখ্যা পৃথিবী এখন ধারণ করতে পারছে। তবে পরিবেশবিদরা মনে করেন, পৃথিবীর জনসংখ্যা ৭০০ কোটি হয়ে গেলে পৃথিবীর পক্ষে এ জনসংখ্যা ধারণ করা আর সম্ভব হবে না। কিছুদিন আগে বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং অন্য গ্রহে মনুষ্যবসতি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। সেটি আদতে কতদূর সম্ভব হবে, না একটি অলীক কল্পনাই থেকে যাবে, সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে। তবে পরিকল্পিতভাবে জনসংখ্যাকে কাজে লাগাতে পারলে তা সমস্যার কারণ না হয়ে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উম্মেচিত করে। এমনই একটি সম্ভাবনার দারপ্রান্তে বাংলাদেশ ।

জিজ্ঞাসা-
কখনো কি আমাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, জাপান এত উন্নত কেন?
যে মালয়েশিয়া থেকে সত্তরের দশকে ছাত্ররা এসে আমাদের দেশে পড়াশুনা করত, সে মালয়েশিয়া হঠাৎ করে এত উন্নত হল কি করে?
চীন তার বিশাল জনসংখ্যা নিয়েও কিভাবে উন্নতি লাভ করল?
কিংবা সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া এগিয়ে গেল কিভাবে?
আসলে এসব দেশ এমন এক সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে, যে সুযোগ প্রত্যেক দেশের জন্য মাত্র একবার আসে।
যারা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, তারা উন্নত দেশে পরিণত হয়। আর যারা পারে না, তারা অনুন্নত দেশ হিসেবেই থেকে যায়। এই সুযোগটিই হল ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড।
কোন দেশের সামগ্রিক ইতিহাসে একবার মাত্র সময় আসে, যে সময়ে মোট জনসংখ্যার বেশির ভাগ মানুষ হয় ‘কর্মক্ষম মানুষ’। অর্থাৎ ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী মানুষ। এই বিশাল কর্মক্ষম মানুষকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক অবস্থা উন্নত করাকেই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বলে।
জাপান, চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আজ তারা উন্নত দেশে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশেও এখন এই গোল্ডেন পিরিওড চলছে
২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশে তরুণ ও কর্মক্ষম জনসংখ্যা বাড়ছে। এটি ২০৪০ সাল পর্যন্ত থাকবে। অর্থাৎ এ সময় পর্যন্ত মোট জনসংখ্যার বেশিরভাগ হবে তরুণ ও কর্মক্ষম মানুষ। তাই এই তেত্রিশ বছরই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ এ আমাদের দেশের অবস্থা কেমন হবে। কিন্তু আফসোসের বিষয় হল, আমরা এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে পারছি না। এই সময়ে সবচেয়ে যে জিনিস জরুরী তা হল স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বিপুল পরিমাণ সরকারি বিনিয়োগ। এই সময়ে যদি দক্ষ ও শিক্ষিত জনশক্তি তৈরি করতে পারা যায়, এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড-এর সুবিধা আমরা তবেই ভোগ করতে পারব। অসুস্থ ও দুর্বল ব্যক্তিরা কর্মক্ষেত্রে তেমন ভুমিকা রাখতে পারে না। এই জন্য শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতেও বাজেট বাড়াতে হবে। এরপর সবচেয়ে জরুরী হল তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। তরুণদের জন্য কাজের ক্ষেত্র না তৈরি করতে পারলে, এই বিশাল সংখ্যক তরুণ বোঝা ছাড়া আর কিছুই হবে না।
২০৪০ সালের মধ্যে যদি আমরা এসব না করতে পারি, তাহলে বাকি জীবন এর ভয়াবহ কুফল ভোগ করতে হবে বাংলাদেশের জন্য। কারণ যত সময় যাবে, তরুণদের সংখ্যা তত কমতে থাকবে। ২০১৩ সালে তরুণ জনশক্তি (১৫-২৯ বছর) ছিল ২৩.৪ মিলিয়ন, যেখানে ২০১৬ সালে এসে সেটি কমে দাঁড়ায় ২০.৫ মিলিয়নে। (QLFS-2015-16) তিন বছরেই তরুণ জনশক্তি কমেছে ৩ মিলিয়ন। দেশে জন্মহার এখন যে হারে চলছে, ২০৫০ পর্যন্ত দেশের জনসংখ্যা আনুপাতিক হারে প্রায় বিশ কোটি হবে। এরপর থেকে এদেশে ক্রমশ জনসংখ্যা কমে যাবে।
তখন তরুণদের সংখ্যাও কমে যাবে, ফলে কর্মক্ষম লোকের সংখ্যাও কমে যাবে। অপরদিকে বাড়তে থাকবে বয়স্ক লোক অর্থাৎ নির্ভরশীল লোকের সংখ্যা। ফলে আমরা তখন জনসংখ্যাকে সেভাবে কর্মক্ষেত্রে আর কাজে লাগাতে পারব না।

বাংলাদেশের মত ভারতেও এখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড সময় চলছে। নরেন্দ্র মোদী তার প্রায় ভাষণেই এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড শব্দের ব্যবহার করে। ভারত এখন তাদের এই বিশাল সংখ্যক তরুণদের কাজে লাগানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এমনকি আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডা তাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে যে পরিমাণ বিনিয়োগ করছে, তাতে ২০৩০ সাল নাগাদ তারা বেশ শক্তিশালী অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডে প্রবেশ করেছে দশ বছর হল। অথচ সে অনুযায়ী এই সুযোগকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশে তেমন কোন পদক্ষেপ নেই, পলিসি নেই, প্ল্যানিং নেই। আমাদের দেশে জনসংখ্যা বেশি হলেও এটি এখন আমাদের জন্য আশির্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়ার সুযোগ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখনই যদি আমরা এই তরুণ ও কার্মক্ষম জনসংখ্যাকে ব্যবহারের সুযোগ কাজে না লাগাতে পারি, চিরতরের জন্য এই সুযোগ হারিয়ে ফেলব। কারণ, এটি দ্বিতীয়বার আর কখনো আসে না কোন দেশে। এখনই সুযোগকে লাগিয়ে দেশকে যদি উন্নত না করতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের জন্য ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করছে।

মধ্যআয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ এই মুহূর্তে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ানোর নানা পথ খুঁজছে। গত দশকের গড় পাঁচ-ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি হারকে দশ শতাংশের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার জন্য কৌশল প্রণয়নের চেষ্টা চলছে বিভিন্নভাবে। সীমিত ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশটিতে প্রবৃদ্ধির গতি তরান্বিত করার বিভিন্ন পরিকল্পনায় বর্ধিত কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ হিসেবে সর্বোত্তম ব্যবহারের ভাবনা এখনও উপেক্ষিতই বলা চলে।

Demographic dividend in Bangladesh

[Trends in growth rate of working age population (15-59) and the growth rate of dependent population (0-14 & 60 Years) 1951-61- 2040-50.

[Source : (Abdullah Al Mahmud (August 2015) Demographic dividend : Realitz and possibilitz for Bangladesh. The Independent]

বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যখন কর্মক্ষম জনসংখ্যার অভাবে ভুগছে, তখন বাংলাদেশের জন্য সুযোগের দরজা খুলে গেছে। ২০১৬ সালে বিশ্বে কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে কর্মক্ষম জনসংখ্যা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ কর্মক্ষম জনসংখ্যায় এগিয়ে আছে। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এক প্রতিবেদনে (২৬ এপ্রিল ২০১৬) বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখন তরুণ জনগোষ্ঠীর রাষ্ট্র। এ অঞ্চলের ৪৫টি দেশের জনসংখ্যাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশ তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির নিযুত সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এ দেশের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৫৬ লাখ। যা মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশ এখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বোনাসকালের সুবিধা ভোগ করছে। ইউএনডিপির মতে, এ পরিস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৩২.৩ শতাংশ শিশু-কিশোর। এদের দক্ষ জনশক্তি করে গড়ে তোলার ওপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ।

জনসংখ্যা কাঠামোর রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ এই মুহূর্তে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-এর প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ক্রমহ্রাসমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনা ও জীবনমানের উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতে গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ার সুফল হিসেবে মোট জনসংখ্যার মধ্যে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সাথে কমে আসছে শিশু ও বৃদ্ধ তথা নির্ভরশীল মানুষের অনুপাত। জনসংখ্যা কাঠামোর রূপান্তরের এই চলমান প্রক্রিয়ায় আত্মনির্ভরশীল জনশক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর অনুপাত হ্রাস পেয়ে সক্রিয় অর্থনৈতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণে সক্ষম ও কর্মক্ষম জনশক্তির পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এই বর্ধিত কর্মক্ষম জনশক্তি একটি নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য একটি দেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে, তাই এর সম্ভাবনা ও সুফল বোঝাতে একে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার বিন্যাসের ক্রমপরিবর্তনের ফলে আমাদের সক্রিয় কর্মক্ষম জনশক্তির অনুপাত আগামী দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছুবে। ইউএনডিপির প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে এ দেশের কর্মক্ষম জনশক্তি ১০ কোটি ৫৬ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশ। ২০৩০ সালে দেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়াবে ১২ কোটি ৯৮ লাখে। আর ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ১৩ কোটি ৬০ লাখে উন্নীত হবে।
বয়স্ক নাগরিকদের নির্ভরশীলতার অনুপাত ৭.৩ শতাংশ যা সামনের দশকে ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে যাচ্ছে। ০-১৪ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৩২.৩ শতাংশ। যাদের সিংহভাগই আগামী এক থেকে দেড় দশকের মধ্যে কর্মক্ষম জনশক্তিতে পরিণত হবে। নির্ভরশীল নাগরিকের সংখ্যা হ্রাস ও কর্মশক্তির বিস্তৃতির ফলাফলে সৃষ্ট ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ তাই আমাদের সামনে খুলে দেবে সুযোগের দুয়ার।

তবে এই সুযোগ চিরস্থায়ী নয়। মোটামোটি তিন দশকের মধ্যেই জনসংখ্যা বিন্যাসের এই রূপান্তর চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির ফলে জীবনমান, স্বাস্থ্যসুবিধা ইত্যাদি উন্নত হওয়ায় গড় আয়ু বাড়তে থাকলে বয়স্ক নির্ভরশীল নাগরিকের সংখ্যাও বাড়তে থাকবে। বর্তমানের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ নির্ভরশীল নাগরিকে পরিণত হবে। তবে সেই পর্যায়ের আগেই এই ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ যথাযথভাবে কাজে না লাগাতে পারলে তা সম্ভাবনার বদলে পরিণত হবে ঝুঁকিতে। বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজ দিতে না পারলে, তাদের আয় ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করতে ব্যর্থ হলে তা সামষ্টিক অর্থনীতিতে ডেকে আনবে বেকারত্ব ও ভারসাম্যহীনতা, প্রবৃদ্ধির গতিকে করবে শ্লথ। বর্ধিত জনসম্পদ তখন বোঝা হয়ে ইতিমধ্যে অর্জিত উন্নয়নের টেকসই ভবিষ্যতকেও ফেলবে হুমকির মুখে।

‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কে কাজে লাগিয়ে অধিকতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। যা চীন ও আসিয়ান টাইগাররা করে দেখিয়েছে গত কয়েক দশকে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম কিংবা জাতিসংঘের সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পরবর্তী ২০১৫-উত্তর এজেন্ডার সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘কর্মসংস্থান’।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রান্তিক মানুষের জন্য কাজ ও টেকসই উপার্জনে পথ তৈরি করাই হবে আগামী দশকে (সারা বিশ্বে গত কয়েক দশকে অর্জিত প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র বিমোচনকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে) প্রধান করণীয়। এমন প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ সম্ভাবনা নাকি ঝুঁকি হিসেবে পরিগণিত হবে তা সর্বাংশে নির্ভর করছে বর্ধিত কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে মূলধারার অর্থনীতিতে আত্মীকরণের সক্ষমতা ও তাদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সাফল্যের ওপর।

মাথাপিছু জমির পরিমাণের ক্রমহ্রাসমান প্রবণতার বিপরীতে গত চার দশকের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ঈর্ষণীয় অগ্রগতির পথ ধরে আমরা বর্তমানে কৃষি উৎপাদনশীলতার প্রায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছি। গ্রামীণ কৃষি থেকে শহুরে অকৃষিপ্রধান অর্থনীতি রূপান্তরের প্রক্রিয়া বিস্তৃত হয়ে শিল্প ও সেবা খাত পরিণত ভিত্তির উপর দাঁড়াতে চেষ্টা করছে। বিস্তৃত সেবা খাত ও বিকাশের সংগ্রামরত শিল্পখাত কীভাবে বিপুল জনগোষ্ঠীকে কর্মশক্তিতে সংযোজন করে নেয় তার ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যত প্রবৃদ্ধির গতি-প্রকৃতি। সংযোজিত জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যাপক রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের প্রয়োজন ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ এর প্রাথমিক পর্যায়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য। এর ফলাফলে শিল্প ও সেবা খাতে সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে তা আয় ও মুনাফার দ্রুত বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। বর্ধিত আয় ও মুনাফা শিল্প এবং সেবা খাতে অভ্যন্তরীণ পুঁজির বিস্তার ঘটাবে। যা পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগকৃত হয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে। এই চলমান প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে বর্ধিত জনশক্তিকে উৎপাদনে আত্মীকরণের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও দ্রুততর হবে আশা করা যায়। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে অভ্যন্তরীন সঞ্চয়ও বৃদ্ধি পায়। পরিবারে বয়স্ক নির্ভরশীল ব্যক্তির সংখ্যা কমে যাওয়া ব্যয় হ্রাস ও সঞ্চয় বৃদ্ধিতে অনেক ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়ের বৃদ্ধিকে বিনিয়োগে পরিণত করতে দরকার কৌশলী সঞ্চয়কাঠামো। উৎপাদনশীল খাতে সেই সঞ্চয় বিনিয়োগে আর্থিক খাতের সক্রিয় ভূমিকা। অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানির মত অপরিহার্য পূর্বশর্তগুলোর সরবরাহ নিশ্চিত করারও কোনো বিকল্প নেই।

‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-এর স্থায়িত্ব সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন দশক। ইতোমধ্যেই আমরা এর প্রথম পর্যায়ে প্রবেশ করেছি। তাই পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বিলম্বের আর সুযোগ নেই। আগামী দশকে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে শিল্প ও সেবা খাতের বিস্তারে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে এবং বর্ধিত জনশক্তিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে রপ্তানির হার বৃদ্ধিতে। অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় বৃদ্ধি পেলে কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই সঞ্চয়কে পুঁজি ও পুঁজিকে বিনিয়োগে রূপান্তর করার পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যাপক রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ শুরু করতে হবে অবিলম্বে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি এ পর্যায়ে অগ্রাধিকার পাবে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা ছাড়া শিল্পখাতের বিস্তার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব হবে না। এরই সাথে সাথে দারিদ্র বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রকল্পগুলো এমনভাবে সমন্বয় করা প্রয়োজন, যাতে দরিদ্র জনগোষ্ঠী অধিক দক্ষ হয়ে ওঠে ও জনশক্তি হিসেবে তাদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। এটি তাদের আয় বৃদ্ধিতে ও দ্রুত দারিদ্র থেকে বের হয়ে আসতে সহায়ক হবে।
‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ এর প্রাথমিক পর্যায়ে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের সাফল্যই নির্ধারণ করে দেবে পরবর্তী পর্যায়গুলোর পরিণতি। আর এরই ওপর নির্ভর করছে আমাদের দ্রুততর সময়ে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া এবং প্রবৃদ্ধিকে টেকসই ও উর্ধ্বগামী করার সকল সম্ভাবনা।

আমাদের প্রস্তাবনা
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ না তৈরি করলে মহাকালের এই বোনাস আমরা ঘরে তুলতে পারব না। ‘ওয়ান টাইম ট্রেন’ মিস করে হা-হুতাশ করা ছাড়া কিছু করার থাকবে না। দেশকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার এই ‘পড়ে পাওয়া চৌদ্দ আনা’ সুযোগ কাজে লাগাতে নিন্মোক্ত প্রস্তাবনা বিবেচনায় আনতে হবে।

নীতি সহায়তা : ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগানোর জন্য লাগসই নীতি প্রণয়ন করতে হবে। একটি দেশের জীবতকালে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বোনাস বা বাড়তি পাওয়া। উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে তা হাসিল না করতে পারলে সেই সুযোগ বিফলে যাবে। এমনকি তা হিতে বিপরীত হতে পারে। যুবকদের শক্তি উৎপাদনশীল কাজে না লাগালে বা লাগাতে ব্যর্থ হলে তা ধ্বংসাত্মক পথে ধাবিত হবেই। যেমন মাদক নেয়া, অসামাজিক ও উগ্রপন্থি কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া ইত্যাদি।

স্বাস্থ্য : মেধা বিকাশের জন্য স্বাস্থ্যের গুরুত্ব অপিরিসীম। স্বাস্থ্য পাত্রের মতো। যা মেধা বা দক্ষতাকে ধারণ করে। উত্তপ্ত পদার্থ তরল কাচের হালকা গ্লাসে রাখলে গ্লাস ফেটে যায়। তদ্রুপ দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারীর কাছে মেধাসম্পন্ন বা দিগি¦জয়ী কিছু আসা করা বৃথা। শিশুদের তাই পুষ্টিকর খাবার দেয়ার বা সহজলভ্য করার ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

শ্রমবাজার : দেশের শ্রমবাজারে প্রতি বছর কত লোক প্রবেশ করছে? উন্নত বিশ্বে বেকারত্ব ও কর্মসৃজন অর্থনীতির এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপক। আমাদের দেশে প্রবৃদ্ধি আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ নিয়ে মাতামাতি দেখি। কর্মসংস্থান বা বেকারত্বের হার খুব একটা পাত্তা পায় না। তবে জনসংখ্যা ১৫ দশমিক ৭ কোটি (বিবিএস ২০১৫ সাল) এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ২ শতাংশ ধরলে মোটাদাগে প্রতি বছর ১৯ লাখ লোক কর্মক্ষম হচ্ছে। এদের জন্য আমরা কী ব্যবস্থা করছি? কোন এক সময় সরকার সবচে’ বড় চাকরিদাতা ছিল। এখন প্রাইভেট সেক্টর সেই স্থান দখল করে নিয়েছে। বড় এক অংশ (প্রায় ৪-৫ লাখ লোক) যায় বিদেশে। কিন্তু ১০-১২ লাখ লোক কোনো চাকরি পায় না। এই বিপুলসংখ্যক লোকের কর্মসংস্থান দুরূহ ব্যাপার। যুবকদের তাই উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন ব্যবসার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি। ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’-এর সারণিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১৯০ দেশের মধ্যে ১৭৬ (নেপাল ১০৭, রুয়ান্ডা ৫৬, ভুটান ৭৩, পাকিস্তান ১৪৪ ও ভারত ১৩০)। অর্থাৎ পৃথিবীতে (আফগানিস্তান ও সোমালিয়াসহ) আর মাত্র ১৪টি দেশ আছে, যেখানে ব্যবসা করা আমাদের দেশের চেয়ে দুরূহ। এ পরিবেশকে অনুকূল করতে হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান : আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন ব্যবসার জন্য মোটেও সহায়ক নয়। তারা চায় তেলা মাথায় তেল দিতে। একদিকে ব্যাংকগুলো অলস টাকা নিয়ে বসে আছে, অন্যদিকে উদ্যোক্তারা টাকা পাচ্ছেন না। বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করার পেছনে ক্ষুদ্রঋণের বিরাট ভূমিকা আছে। প্রচলিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে জামানতবিহীন ঋণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের যাত্রা। একই কায়দায় স্টার্ট-আপদের জন্য অর্থায়নের বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে না এগোলে উদ্যোক্তাদের সব প্রয়াস অকালেই অক্কা পাবে। স্টার্ট-আপদের অর্থায়নের জন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, ক্রাউড ফান্ডিং, (পারসন টু পারসন) পিটুপি লেন্ডিংসহ বিভিন্ন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে। আমরা কী করছি? নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার দূরে থাকুক, যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ বছর আগে প্রচলিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বা ১০ বছর আগে প্রচলিত ক্রাউড ফান্ডিং প্রচলনেও আমরা দ্বিধাগ্রস্ত। এক পা এগোই তো দুই পা পিছিয়ে যাই। পিটুপি অর্থায়নে গণতন্ত্রায়ণ এর নতুন ধারা অর্থায়নকে রাজসিক কাতার থেকে আমজনতার কাতারে নামিয়ে এনেছে। দুর্বোধ্য, দুরূহ থেকে ওয়েবনির্ভর মুড়ি-মুড়কির ব্যাপারে পরিণত করেছে। আমরা যদি লাখ লাখ উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে চাই, তাহলে অর্থায়নকে সহজলভ্য করতে হবে। নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে সহায়তাকারীর ভূমিকা।

মানবসম্পদ : বিসিএসে দু-তিন হাজার পদের জন্য দু-আড়াই লাখ প্রার্থী পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়। আমাদের যুবকরা নৌকায় সমুদ্র পাড়ি দেয় মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের উদ্দেশে। জীবিকার তাড়নায় খাঁচায় বন্দি জীবন কাটায়, পণ আদায়ের জন্য নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়, লাশ হয়ে গণকবরে সমাহিত হয়। কাভার্ড ভ্যানে মুরগির মতো গাদাগাদি করে আফ্রিকার মরুভূমি পাড়ি দিয়ে ইউরোপে ঢোকে। বিপরীত দিকে আমাদের কর্পোরেট হাউজগুলো তাদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতার লোক এ দেশে না পেয়ে বিদেশীদের নিয়োগ দেয়। বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা হারাই আমরা। এই অসামঞ্জস্যের বড় কারণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের দূরত্ব ও সমন্বয়হীনতা। যুবকদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত না করতে পারলে এ দূরত্ব প্রতিনিয়ত বাড়বে। বিপুল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার জন্য সবার আগে যা দরকার তা হল সবার জন্য কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা। আমাদের দেশের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থা বেকারত্ব ঘোচাতে পারছে না। একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষাজীবন শেষে চাকরির নিশ্চয়তা পাচ্ছে না। তারা বেকার অবস্থায় ঘুরে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছে। শুধু সরকারি চাকরি প্রদানের মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধান করা যাবে না। এজন্য প্রয়োজন আত্মকর্মসংস্থানে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা। আর আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সবার আগে দরকার কারিগরি শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটানো। একমাত্র কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমেই যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যেতে পারে।

এখানে বলে রাখা ভাল, শিক্ষাখাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে দু’ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। যারা শিক্ষাজীবনে অসাধারণ সাফল্য প্রদর্শন করবে তারা উচ্চশিক্ষা লাভ করে শিক্ষক, ডাক্তার, প্রকৌশলী ইত্যাদি মননশীল পেশায় চলে যাবে। আর যারা কিছুটা কম সাফল্য বা পারদর্শিতা প্রদর্শন করবে, তারা ভবিষ্যতে কারিগরি শিক্ষাকে সম্বল করে আত্মকর্মসংস্থান করবে। যারা মাদ্রাসায় পড়ে তাদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ বাংলাদেশ থেকে যে জনশক্তি রফতানি করা হয় তার বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গমন করে। তারা সাধারণত শ্রমিক হিসেবে যায়। তারা ভাষাগত সমস্যায় পতিত হয়। কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষিতরা যেহেতু আরবি ভাষা জানে, তাই তারা মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে ভাষাগত সমস্যায় পড়ে না। শুধু বিভিন্ন গ্রেডে কারিগরি প্রশিক্ষণ থাকলেই তারা প্রচুর অর্থ আয় করতে পারবে। একজন প্রশিক্ষিত শ্রমিক সাধারণ শ্রমিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বেতন-ভাতা লাভ করে থাকে। বাংলাদেশ থেকে যদি বেশি করে প্রশিক্ষিত শ্রমিক ও পেশাজীবী বিদেশী বাজারে রপ্তানি করা যায়, তাহলে এ খাতের আয় বহুগুণ বৃদ্ধি করা যেতে পারে। শুধু বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির জন্যই কারিগরি প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে তা নয়; স্থানীয়ভাবে দক্ষ এবং অধিক উৎপাদনক্ষম শ্রমশক্তি গড়ে তোলার জন্যও ব্যাপকভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান ছাড়া কোনোভাবেই দারিদ্র বিমোচন সম্ভব নয়।
আরও একটি বিষয়ে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। আগে দেখা যেত পরিবারের একজন বা দু’জন কাজ করছে আর সবাই বসে বসে খাচ্ছে। এই সনাতনী ধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। উপার্জনক্ষম প্রতিটি হাত যাতে কর্মীর হাতিয়ারে পরিণত হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সুযোগ কাজে লাগানোর জন্যও প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মশক্তির বিকল্প নেই।

References

1.BDHS 2014: NIPORT-National Institute of Population Research and Training, Mitra and Associates, and ICF International. 2015. Bangladesh Demographic and Health Survez 2014: Kez Indicators. Dhaka, Bangladesh, and Rockville, Marzland, USA: NIPORT, Mitra and Associates, and ICF International.

2.(Abdullah Al Mahmud.(August 2015) Demographic dividend: Realitz and possibilitz for Bangladesh. The Independent

  1. UNDPA report 26 julz, 2016 .